সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধার অভিযোগ

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক বৃদ্ধা মা।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাশুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মরহুম সামসুল হক মৃধার স্ত্রী মেহেরুন নেছা (৮০)।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী মেহেরুন নেছার বড় মেয়ে শান্তনা বেগম (৫৮) ও ছোট ছেলে, ফ্রান্সপ্রবাসী মো. রমজান মৃধা (৪৮)।

লিখিত বক্তব্যে মেহেরুন নেছা অভিযোগ করেন, তার বড় ছেলে টুটুল মৃধা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। ২০১৮ সালে জোরপূর্বক তার নামে ২২ শতাংশ জমি লিখে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এরপরও সন্তুষ্ট না হয়ে বর্তমানে পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে নিতে টুটুল মৃধা ও তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এমনকি আমার মেয়ে ও প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমাকে বাড়িতে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বড় ছেলে আমার ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেয় না।’

তিনি আরও জানান, পারিবারিক নির্যাতনের খবর পেয়ে ছোট ছেলে রমজান মৃধা গত ১৬ আগস্ট ফ্রান্স থেকে দেশে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন রাতে অভিযুক্তরা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার ছোট ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে চিকিৎসা নিয়ে ২৪ আগস্ট শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এরপরও অভিযুক্তরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে পুনরায় মারধর করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মা।

এ সময় ছোট ছেলে রমজান মৃধা অভিযোগ করেন, বড় ভাই তাকে ফ্রান্সে যেতে বাধা দেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত টুটুল মৃধা ও তার স্ত্রী হাবিবা বেগমকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে টুটুল মৃধার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টুটুল মৃধা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যুবলীগের পদপ্রার্থী হিসেবেও প্রচারণা চালিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।