চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে কোপানোর ঘটনায় গ্রেফতার ২
প্রতিকি ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) নামে এক যুবককে কোপানোর ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামের মো. শাহ আলম ও আব্দুর রাজ্জাক।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর বাহাদুর মোড়লেরটোলা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে আবু সুফিয়ান সিজু এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী দলের সদস্য। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ওমরপুর ঘাট এলাকায় এক যুবককে পেটানোর সময় অন্য এক যুবক বাধা দিলে সিজু তার গলায় চাকু ধরে হুমকি দেয়।
এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সিজুকে ধরে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই হাতের কবজি ও পায়ে উপুর্যুপরি কোপায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয় একটি পক্ষ জামায়াত-শিবির কর্মীরা এতে জড়িত বলে প্রচার চালায়। তবে অন্য একটি পক্ষের দাবি, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও আহত সিজু সবাই ছিনতাইকারী দলের সদস্য।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি মামুন হাসান ও সেক্রেটারি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আবু সুফিয়ান সিজু অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় আহত হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনের আগেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তারা দাবি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন. এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আহত সিজুর পিতা রবিউল ইসলাম তিনজনের নাম উল্লেখসহ ১০–১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।