চা-কফি খেতে গিয়ে জিভ পুড়লে কী করবেন?

চা-কফি খেতে গিয়ে জিভ পুড়লে কী করবেন?

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা আয়েশি বিকেলে চায়ের কাঁপে চুমুক দিতেই বিপত্তি। জিভ পুড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণা ছড়িয়ে গেল কান আর মাথাতেও। চা-কফি খেতে গিয়ে জিভ পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন অনেকেই। আর এটি স্বাভাবিকও। কারণ মুখের ভেতর থাকা অজস্র স্নায়ু কান ও মাথার স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত। 

জিভ পুড়ে গেলে অনেকসময় মুখের ভেতর ফোসকা পড়ে যায়। এতে পরবর্তী কয়েকদিন খাবারের কোনো স্বাদ পাওয়া যায় না। উল্টো খাবারের কারণে পুড়ে যাওয়া জিভে ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যা থেকে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। 

চা-কফি খেতে গিয়ে জিভ পুড়ে গেলে কী করবেন? চলুন কিছু ঘরোয়া টোটকা সম্পর্কে জেনে নিই যেগুলো কাজে লাগিয়ে এই সমস্যা কমাতে পারেন- 

১. দ্রুত ঠান্ডা করুন 

জিভ পোড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুড়ে যাওয়া জায়গায় ঠান্ডা পানি দিন। কুলকুচি না করলেও চলবে। তার বদলে মুখের মধ্যে ঠান্ডা পানি নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এতে জিভের তন্তুতে থাকা তাপ কমে যাবে। ক্ষত গভীর হবে না। তবে ঠান্ডা পানির বদলে বরফ দেওয়ার দরকার নেই। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিলেই হবে। সরাসরি বরফ জিভে চেপে ধরলে ‘আইস বার্ন’ হয়ে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।

২. মধু ব্যবহার

মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা রয়েছে। এটি আরামদায়কও। ঠান্ডা পানি দিয়ে জ্বালা কমলে এক চামচ মধু জিভের পোড়া জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। এটি জিভকে আর্দ্র রাখবে এবং ফোসকা পড়ার ঝুঁকি কমাবে।

৩. চিনি বা মিছরি 

পোড়া জায়গায় সামান্য চিনি ছিটিয়ে দিতে পারেন। চিনি গলার সময় জ্বালাভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়। স্বাদকোরকের অস্বস্তিও কমায়।

৪. দই বা ঠান্ডা দুধ

এক চামচ ঠান্ডা টক দই বা ঠান্ডা দুধ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এটি জিভের ওপর একটি প্রলেপ তৈরি করবে, যা জ্বালা কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।

৫. অ্যালোভেরা জেল

বাড়িতে যদি ‘এডিবল’ বা খাওয়ার জন্য নিরাপদ অ্যালোভেরা থাকে, তবে তার শাঁস পোড়া স্থানে সামান্য লাগাতে পারেন। এটি দ্রুত ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে।

কী করবেন না?

  • জিভ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত মরিচ, গোলমরিচ বা লেবুর রস জাতীয় খাবার খাবেন না। এতে জ্বালা বাড়বে।
  • অন্তত ২৪ ঘণ্টা খুব গরম কিছু খাবেন না।
  • লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি করবেন না, এতে জ্বালা বেড়ে যেতে পারে।

যদি দেখেন জিভ অতিরিক্ত ফুলে গেছে, ব্যথা হচ্ছে এবং তা কমছেই না বা ফোসকা বড় হয়ে গেছে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।