যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পোস্টাল ভোট দিলেন ১০০ কয়েদি
ফাইল ছবি
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দিয়েছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১০০ কয়েদি। তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ইতিহাসে প্রথম বারের মতো এবারই কয়েদি ও প্রবাসীসহ তিন শ্রেনীর ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া সুযোগ পেলেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের বিষয়টি বন্দিদের অবহিত করা হলে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকাসহ অন্যান্য কারণে অনেকেই অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেননি।
আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদনও করেননি। এসব কারণে সব মিলিয়ে এই কারাগারের মোট ১২৯ জন বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এরমধ্যে ১০০ জন বন্দি ভোট প্রদান করেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র আরও জানায়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পোস্টাল ব্যালট আসার পর কারাগারের ভেতরেই ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচন করছেন সে বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত জানানো হয়।
নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠায়। প্রতিটি প্যাকেটে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ব্যালট পেপার ছিল।
বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিলগালা করেন। এরপর কারাগারের নির্ধারিত স্থানে বসেই তারা ভোট প্রদান করেন। পরে ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষর সংবলিত কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
জানতে চাইলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান বলেন, ‘নিবন্ধিত বন্দিদের মধ্যে ১১১ জনকে ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০০ জন ভোট প্রদান করেছেন। বাকী ১১ জন ভোট দেননি।’
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্দিদের এই সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।