নির্বাচনে আলোচিত মুখগুলোর কে জিতলেন কে হারলেন
ফাইল ছবি
ভোটের প্রচার থেকেই যাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, ফল ঘোষণার পর তাঁদের অনেকের ভাগ্যে এসেছে জয়, আবার অনেকেই ফিরেছেন হতাশ হয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিচিত রাজনৈতিক মুখের পাশাপাশি নতুন কিছু নামও উঠে এসেছে আলোচনায়।
নির্বাচনী মাঠে রুমিন ফারহানা, নাহিদ ইসলাম, ফজলুর রহমান, নুরুল হক নুর, হাসনাত আবদুল্লাহ, হান্নান মাসউদ জয় পেলেও ঢাকার বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, তাসনিম জারা, মামুনুল হক এবং পঞ্চগড়ের সারজিস আলম বিএনপি প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ তিন নেতা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টির জিএম কাদের এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম হেরে গেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খানের কাছে পরাজিত হয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয় পেলেও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারিও পরাজয়ের মুখ দেখেছেন।
আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপি, জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তোলে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়ার দুটি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকার একটি আসনে জয় পেয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও তাঁর আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।
বগুড়া ৬ আসনে তারেক রহমান এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ঢাকা ১৭ আসনে তিনি জয় পেয়েছেন মাত্র চার হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে।
ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থীকে ২১ হাজার ৬১৪ ভোটে হারিয়েছেন। ঢাকা ১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলাম বিএনপির এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৩৯ ভোটে জয়ী হন।
রংপুর ৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে জয় পান। গাইবান্ধা ১ আসনে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী তৃতীয় হন। কক্সবাজারে হামিদুর রহমান আযাদ এবং সুনামগঞ্জে শিশির মনির হেরে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনে রুমিন ফারহানা ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান। ঢাকা ৮ আসনে মির্জা আব্বাস প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারান। ঢাকা ৯ আসনে তাসনিম জারা তৃতীয় হন।
কুমিল্লা ৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহ এক লাখের বেশি ভোটে জয় পেলেও পঞ্চগড় ১ আসনে সারজিস আলম প্রায় আট হাজার ভোটে পরাজিত হন। কিশোরগঞ্জ ৪ আসনে ফজলুর রহমান প্রায় ৭২ হাজার ভোটে জয় পান।
ঢাকা ১৩ আসনে মামুনুল হক দুই হাজার ৩২০ ভোটে হেরে যান। পটুয়াখালী ৩ আসনে নুরুল হক জয়ী হন। ঝিনাইদহ ৪ আসনে রাশেদ খান তৃতীয় হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৬ আসনে জোনায়েদ সাকি জয় পান। ঢাকা ১৬ আসনে মো আব্দুল বাতেন, কক্সবাজার ১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ, ভোলা ১ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ এবং রংপুর ২ আসনে এ টি এম আজহারুল ইসলাম জয়ী হয়েছেন।
বিএনপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে আরও আছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (অবসরপ্রাপ্ত), আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ