তৃণমূল নেতা অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি অভিযান
ফাইল ছবি।
কলকাতার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে শনিবার ভোররাতের পুলিশি তল্লাশি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শালবনি থানার পুলিশ একটি তদন্তের সূত্র ধরে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে পুলিশ ফিরে গেলেও খোঁজ মেলেনি অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়ের।
শালবনি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় সুমিত রায়কে খোঁজা হচ্ছে। একইসঙ্গে শালবনির জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তেও তার নাম উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সম্প্রতি ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সুমিত সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশে ধরা পড়েছিল। সেই সূত্র ধরেই শনিবার ভোররাতে শালবনি থেকে একটি পুলিশ দল কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত প্রায় ৩টের সময় তারা অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছয়।
পুলিশের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করা হয়। এরপর বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হয়। সকাল ৮টার কিছু পরে অভিযান শেষ করে পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। তবে সুমিত রায়ের কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোরে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য না করেই পরে এলাকা ছাড়েন।
অন্যদিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কোনও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পুলিশ তার বাড়িতে প্রবেশ করেছে। তার অভিযোগ, তালা ভেঙে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থার সামিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, পুলিশের পুরো অভিযানের ভিডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। তার ভাষ্য, বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক। বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সম্প্রতি তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। ওই মামলায় তাকে ফের হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে ১৬ জুন হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাকে তলব করেছে ইডি। এর আগে ১৪ জুনও তাকে ভবানী ভবনে ডাকা হয়েছে।
এদিকে, শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সুমিত রায়কে খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে তদন্তকারী মহলের দাবি। ভোররাতের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক বিবাদ শুরু হয়েছে।
একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, তদন্তের নামে বিরোধী কণ্ঠকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মামলার সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য করেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ধরনের অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেছেন।