‘বিলুপ্তপ্রায় ভাষা নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে হবে’

‘বিলুপ্তপ্রায় ভাষা নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করতে হবে’

সংগৃহীত ছবি

দেশের ১৪টি ভাষা এখন বিলুপ্তপ্রায়। এসব ভাষা সংরক্ষণে বড় পরিসরে কাজ করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। রেংমিটচা ভাষাভাষী বর্তমানে মাত্র সাতজন রয়েছেন। সরকারি উদ্যোগে মাত্র পাঁচটি ভাষায় শিশুদের পাঠ্যবই সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ দেশে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৪০টি। তাই বাকি ভাষাগুলোকেও সংরক্ষণের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে ভাষা সংরক্ষণের ভূমিকা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে (আমাই) এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আমাইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ালিউল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া। সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এসএম আরিফ মাহমুদ, ড. আহমেদুল কবির এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিউল হক।

আন্তর্জাতিক এ সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের বেশিরভাগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুরা বাংলায় পড়াশোনা শুরু করে, যদিও বাংলা তাদের মাতৃভাষা নয়। এতে তাদের শিখন দক্ষতা অর্জনে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

বক্তারা বলেন, দেশে ১৪টি ভাষা বিলুপ্তপ্রায়। এসব ভাষা সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে অনেকে কাজ করলেও এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বিলুপ্তপ্রায় ১৪টি ভাষা নিয়ে গবেষণা জরুরি। রেংমিটচা ভাষাভাষী বর্তমানে দেশে মাত্র সাতজন। এ বিষয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ভাষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অতীতে মন্ত্রণালয়ের ধীরগতি দেখা গেছে। তবে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ভাষা নিয়ে কাজ করে এমন একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হলো আমাই—যা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা আন্তর্জাতিক পরিসরেও ভাষা নিয়ে কাজ করতে চাই। সরকারের সহযোগিতা পেলে তা সম্ভব হবে। এজন্য আমাদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বে। মাতৃভাষায় শিক্ষা না পাওয়ায় তারা জাতীয় অর্থনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে অবদান রাখতে পারছে না। অর্থনৈতিক শক্তি না থাকলে একটি ভাষা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী থোয়াই চিং মং বলেন, মাত্র পাঁচটি ভাষা সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এসব ভাষায় শিশুদের পাঠ্যবই সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু দেশে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী রয়েছে প্রায় ৪০টি। তাই অন্যান্য ভাষাকেও সংরক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাবিকুননাহার বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে পেশাগত কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারলে ভাষাগুলো ক্রমেই সংকটে পড়বে।