যুদ্ধের ক্ষতিপূরণে হরমুজ প্রণালিতে কর বসাবে ইরান?

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণে হরমুজ প্রণালিতে কর বসাবে ইরান?

ছবিঃ সংগৃহীত।

নতুন এই সিস্টেম মোতায়েনের ফলে পূর্ব তুরস্ক এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হলো। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সাম্প্রতিক এই তৎপরতা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা কৌশলকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করছে।

তবে এর মধ্যে যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দিকেই এখন মূল নজর দিয়েছে ইরান। 

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তারা এখন এমন একটি কৌশল নিয়ে ভাবছেন যাতে যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে পুষিয়ে নেওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ১২তম দিনে গড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বর্তমানে ইরানের তেল খাত সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এখানে নতুন কোনো কর আরোপ বা বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে তেহরানের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ১ হাজার ৩ শ’র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

তার মতে, ইরানের ভেতরে কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি হলো একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতি পূরণে দায়ী দেশগুলোকে অর্থ প্রদান করতে হবে। আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব হলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ করা।

ইজাদি বলেন, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর অন্য সবাই স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে—এমন পরিস্থিতি আর চলবে না।