আল-আকসার ৪৮ বছরের মুয়াজ্জিন শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজের ইন্তেকাল
ফাইল ফটো
৪৮ বছর ধরে পবিত্র মসজিদুল আকসায় আজান দিয়েছিলেন মসজিদটির সুপরিচিত মুয়াজ্জিন ও কারি শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজ। শনিবার ইন্তেকাল করেছেন তিনি। তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে শত শত ফিলিস্তিনির উপস্থিতিতে এই প্রবীণ মুয়াজ্জিনকে শেষ বিদায় জানানো হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রোববার মসজিদুল আকসা চত্বরে শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জেরুজালেমের একটি স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজ ছিলেন মসজিদুল আকসার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় মুয়াজ্জিন। ১৯৭৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আল-আকসায় আজান দেওয়া শুরু করেন। টানা চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজানের পাশাপাশি সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করে তিনি জেরুজালেমবাসীর হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।
জেরুজালেমের বিখ্যাত কাজ্জাজ পরিবার শত শত বছর ধরে মসজিদুল আকসায় আজান দেওয়ার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজ ছিলেন সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। বর্তমানে তার ছেলে ফেরাস আল-কাজ্জাজও এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করে বাবার উত্তরাধিকার বহন করছেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মিসরের ধর্মমন্ত্রী ওসামা আল-আজহারি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজের সুমধুর কণ্ঠ দশকের পর দশক ধরে জেরুজালেমবাসীর হৃদয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি জুগিয়েছে। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠতা ও নিবেদিত প্রাণের এক অনন্য উদাহরণ। তার কণ্ঠ আল-আকসার আকাশ-বাতাস ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামিক জিহাদও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছে, আল-আকসার প্রতি ভালোবাসা ও জেরুজালেমের মাটিতে অবিচল থাকার এক দীর্ঘ সংগ্রাম শেষ করে তিনি বিদায় নিলেন। শনিবার মসজিদুল আকসার মাইক থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দখলদার ইসরায়েলের অব্যাহত বিধিনিষেধ ও জেরুজালেমের মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টার বিপরীতে শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজের আজান ছিল ফিলিস্তিনিদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার এক শক্তিশালী প্রতীক। ১৯৬৭ সাল থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রাখা ইসরায়েল নানাভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলেও কাজ্জাজ পরিবারের আজানের ধ্বনি সেখানে ইসলামের উপস্থিতিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।