প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতি, আন্দোলনের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও দীর্ঘদিন ধরে যোগদান ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না থাকায় প্রায় ১৫ হাজার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে তারা নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক সহকারী নিয়োগ ২০২৫-এ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
তাদের অভিযোগ, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখায়নি। এতে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য তাদের মানসিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তারা জানান, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পুনঃতদন্ত শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেন। অনেকেই চাকরির নিশ্চয়তায় পূর্বের কর্মস্থল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সারাদেশের সুপারিশপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানান।
এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ‘দোদুল্যমান’ অবস্থান দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এই অবস্থায় পূর্বঘোষিত ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সুপারিশপ্রাপ্তরা।
তারা জানান, আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে এবং এতে তাদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।