হরমুজে ট্রানজিট ফি নিয়ে উত্তেজনা, ইরানের বিরুদ্ধে একজোট উপসাগরীয় দেশ
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাহাজ চলাচলে ট্রানজিট ফি আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘে কূটনৈতিক চাপও বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে আরব আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুশাহাব বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ফি চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথকে চাঁদাবাজির আওতায় আনা যাবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রণালিতে মাইন পেতে রাখা হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলে কর আরোপের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হুমকি ও হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে। প্রস্তাবে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ এবং খাদ্য ত্রাণ সার পরিবহনের জন্য মানবিক করিডর চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাহরাইনের প্রতিনিধি জামাল ফারেস আল রোওয়াই বলেন, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কাতারের প্রতিনিধি আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল থানি সতর্ক করে বলেন, প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি খাত ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। একই ধরনের আশঙ্কা জানিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতিনিধি আবদুলআজিজ আলওয়াসিল। তার মতে, এতে মানবিক সংকটও তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। তিনি ইরানকে মাইন অপসারণ এবং জাহাজ চলাচলে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এর আগে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গত মাসে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব আটকে দেয়।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
আল-জাজিরা