লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর ও চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
হরমুজ
লেবাননে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলার জেরে কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে বিশ্বের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়ার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৪১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে ‘কঠোর’ বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই হামলা চালানো হয়।
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ‘নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির’ কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর উড়ে আসা ইরানের দুটি ড্রোনে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেখানে পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেখানে এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পেয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরান ‘সতর্কতামূলক’ গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি।