রাশিয়ার নতুন 'নিউক্লিয়ার টর্পেডো' সাবমেরিন আমেরিকার গলার কাঁটা

রাশিয়ার নতুন 'নিউক্লিয়ার টর্পেডো' সাবমেরিন আমেরিকার গলার কাঁটা

ছবিঃ সংগৃহীত।

রাশিয়া তাদের সামরিক শক্তির বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে এক ভয়ংকর মারণাস্ত্র।সম্প্রতি রাশিয়ার শিপইয়ার্ড থেকে ‘খাবারভস্ক’ নামক একটি বিশেষ পারমাণবিক সাবমেরিন উন্মোচন করা হয়েছে। এটি মূলত পুতিনের বহুল আলোচিত ‘অজেয়’ অস্ত্র ‘পসেইডন’ পারমাণবিক টর্পেডো বহন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ সমুদ্রের তলদেশে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্র ও উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খাবারভস্ক সাবমেরিনটি প্রায় ১৩৫ মিটার লম্বা। এটি রাশিয়ার বোরি-ক্লাস ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর প্রধান কাজ হলো শত্রুদেশের উপকূলীয় শহর এবং কৌশলগত অবকাঠামোতে পারমাণবিক আঘাত হানা। সাবমেরিনটি অত্যন্ত নিভৃতে চলাচল করতে সক্ষম, যা একে মার্কিন রাডার ও সোনার সিস্টেমের নজর থেকে আড়ালে রাখবে।

এই সাবমেরিনের প্রধান অস্ত্র হলো ‘পসেইডন’ টর্পেডো। এটি সাধারণ কোনো টর্পেডো নয় বরং এটি একটি ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লিচালিত ড্রোন। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭০ নট বা ১৩০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। পারমাণবিক শক্তিচালিত হওয়ায় এর পাল্লা কার্যত সীমাহীন এবং এটি সমুদ্রের তলদেশে ১ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত যেতে পারে, যেখানে বর্তমানের অনেক সাবমেরিন পৌঁছাতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া তাদের উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের জন্য মোট ৩০টি পসেইডন টর্পেডো এবং ৪টি বিশেষ সাবমেরিন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। রাশিয়ার ‘পেরিমিটার’ বা ‘ডেড হ্যান্ড’ ব্যবস্থার সাথে এই অস্ত্র যুক্ত হলে এটি এক বিধ্বংসী ‘সেকেন্ড-স্ট্রাইক’ মারণাস্ত্রে পরিণত হবে। অর্থাৎ, রাশিয়ার কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হয়ে গেলেও এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন উপকূলীয় শহরগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার এই অভাবনীয় অগ্রগতি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতি সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালে তাদের ‘সাবরক’ অ্যান্টি-সাবমেরিন মিসাইল অবসর দিয়েছিল।

বর্তমানে রাশিয়ার এই গভীর সমুদ্রে চলাচলের সক্ষমতা সম্পন্ন পারমাণবিক টর্পেডোকে আটকানোর মতো কোনো দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র মার্কিন বহরে নেই। যা পেন্টাগনের জন্য চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা জবাব হিসেবেই রাশিয়া এই পসেইডন প্রকল্পকে ত্বরান্বিত করেছে। রাশিয়ার ভয় হলো, মার্কিন প্রযুক্তির কারণে তাদের প্রচলিত মিসাইলগুলো অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে নীরবে আঘাত করার এই কৌশল বেছে নিয়েছে মস্কো।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই টর্পেডোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।

ন্যাটোর জ্বালানি নিরাপত্তা সেন্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০ নট গতিতে চললেও রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে মার্কিন উপকূলে পৌঁছাতে এই টর্পেডোর প্রায় একদিন সময় লাগবে। যেখানে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া উচ্চ গতিতে চলার সময় এটি প্রচুর শব্দ তৈরি করবে, যা ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।