অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’: যে ফজিলত জানলে আর ভুলবেন না

অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’: যে ফজিলত জানলে আর ভুলবেন না

ফাইল ফটো

অজু করতে বসলে আমরা সাধারণত হাত-মুখ-পা ধোয়ার কথাই ভাবি। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) এমন একটি আমলের কথা বলেছেন, যা করলে কেবল অজুর অঙ্গগুলো নয়, পুরো শরীর পবিত্র হওয়ার সওয়াব পাওয়া যায়। সেই আমলটি হলো অজুর শুরুতে মাত্র একটি শব্দ- ‘বিসমিল্লাহ’।

যে শব্দে পুরো শরীর পবিত্র!

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি অজু করার সময় আল্লাহর নাম নিল, তার পুরো শরীর পবিত্র হয়ে গেল। আর যে আল্লাহর নাম নিল না, কেবল তার অজুর অঙ্গগুলোই পবিত্র হলো।’ (আল-মুজামুস সাগির: ৭৬২, দারা কুতনি) অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার গুরুত্ব ও ফজিলত বোঝাতে আলেমগণ এটি উল্লেখ করে থাকেন।
একটু ভেবে দেখুন- অজুতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ ধুই। কিন্তু বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে সেই অজু সওয়াব ও বরকতের দিক থেকে পুরো শরীরকে এক আধ্যাত্মিক পবিত্রতায় মুড়িয়ে দেয়। শুধু একটি শব্দের বিনিময়ে এত বড় ফজিলত, এটি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ ছাড়া আর কী!

বিসমিল্লাহ ছাড়া অজু ‘অসম্পূর্ণ’

অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা নিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী হাদিস হলো- ‘যে ব্যক্তি অজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়নি, তার অজু (পূর্ণাঙ্গ) হয়নি।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০১) এই হাদিসটির বিভিন্ন সূত্র পর্যালোচনা করে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম ইবনে কাসিরসহ অনেক মুহাদ্দিস একে ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন।
মুহাদ্দিসগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে অজু বাতিল হওয়ার কথা বলা হয়নি; বলা হয়েছে পূর্ণতার ঘাটতির কথা। যেমন হাদিসে আছে, ‘যার আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই’- এখানে ঈমান সম্পূর্ণ অস্বীকার করা নয়, বরং ঈমানের পূর্ণতার অভাব বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বিসমিল্লাহ ছাড়া অজু করলে নামাজ হবে ঠিকই, কিন্তু অজুর যে পূর্ণ বরকত ও সওয়াব- তা অর্জিত হয় না।

একটি জরুরি সতর্কতা

অনেক মসজিদের অযুখানায় লেখা থাকে- ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়লে অজু ভাঙা পর্যন্ত ফেরেশতারা সওয়াব লিখতে থাকে।’ এই বর্ণনাটি হাদিস বিশেষজ্ঞদের কাছে নির্ভরযোগ্য নয়। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ও ইমাম জাহাবি (রহ.)-এর মতো পণ্ডিতগণ এটিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। তাই প্রচলিত এই বর্ণনার ওপর ভরসা না করে শুধু “বিসমিল্লাহ” বলে অজু শুরু করুন- এটুকুই সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং যথেষ্ট।

ছোট আমল, বিশাল প্রাপ্তি

দিনে অন্তত পাঁচবার অজু করতে হয়। প্রতিবার মাত্র একটি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করলে পুরো শরীর পবিত্র হওয়ার সওয়াব মেলে। যারা বাথরুমে বসে অজু করেন, তারা মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে বিসমিল্লাহ পড়লেও এই ফজিলত পাবেন বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।

এর চেয়ে সহজ ও লাভজনক আমল আর কী হতে পারে? তাই আজ থেকেই অজুর কলের কাছে বসার সাথে সাথে মনে রাখুন- আগে বিসমিল্লাহ, তারপর পানি।