বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় কার্গো ট্রেন থেকে মাদক উদ্ধার

বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় কার্গো ট্রেন থেকে মাদক উদ্ধার

সংগৃহীত

যশোরের বেনাপোল রেলস্টেশনে ভারত থেকে আসা একটি মালবাহী বা কার্গো ট্রেনের ইঞ্জিনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা মাদকজাতীয় ৩২০ বোতল এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে এই মাদক উদ্ধার করেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কোডিন ফসফেট মেশানো নতুন একটি মাদক এস্কাফ সিরাপ। ভারতে কাশির সিরাপ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এটা দিয়ে নেশা করাটা মহামারির আকার ধারণ করেছে। নেশাদ্রব্য হিসেবে ব্যবহারের কারণে ভারত নিষিদ্ধ করেছে এটি। গত কয়েক বছর ধরে সীমানা পেরিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

রোববার (১৮ মে) ক্যাম্প সূত্র জানায়, বিজিবির হাতে গোপন তথ্য আসে যে, ভারত থেকে আসা একটি মালবাহী কার্গো ট্রেনে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রেনটিতে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে ট্রেনের একটি বগির নিচে ইঞ্জিনের সঙ্গে বেঁধে রাখা ৩২০ বোতল এস্কাফ সিরাপের বোতল উদ্ধার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল রেলস্টেশন এলাকার দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কিছু অসাধু নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে ট্রেনযোগে এসব মাদক বাংলাদেশে আসছে। 

ভারতের বনগাঁ ও কলকাতা স্টেশন এলাকা থেকে চোরাকারবারীরা ট্রেনের বগির ভেতর লুকিয়ে এগুলো বাংলাদেশে পাঠায়। ট্রেন বেনাপোল পৌঁছালে গভীর রাতে এগুলো নামিয়ে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর ও রেলপথ ব্যবহার করে মাদক প্রবেশ করছে। এতে নিরাপদ বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়ছে। মাদক প্রবেশ রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

বেনাপোল ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, রেলষ্টেশন থেকে বিজিবি সদস্যরা মাঝেমধ্যে মাদকের চালান উদ্ধার করলেও রেল পুলিশের সফলতা নেই। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। 

বেনাপোল রেলষ্টেশন মাস্টার আইনাল হোসেন জানান, তিনি ভারতীয় কার্গো রেল থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছেন। তবে এসব নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার দায়িত্ব রেল নিরাপত্তাকর্মীদের।

বেনাপোল রেল নিরাপত্তা পুলিশের কর্মকর্তা রানা ইসলাম মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামনের দিনে কার্গো রেলে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। চেকপোষ্ট থেকে বেনাপোল রেল ষ্টেশন পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রাচীরের জন্য উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কে বা কারা কার্গো রেলে মাদক পাচার করছে সেসব চোরাকারবারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।