২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: গ্রুপ এল প্রিভিউ
ফাইল ছবি
আট বছর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে সেমিফাইনালে হেরে ইংল্যান্ডের যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তার বদলা নেওয়ার একটা সুযোগ এসেছে ইংলিশদের সামনে। এবার গ্রুপ এল-এ আবার মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।
লুকা মদ্রিচের অভিজ্ঞ ক্রোয়েশিয়া এবং হ্যারি কেইনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড—দুই দলই ভিন্ন প্রজন্মের শক্তি নিয়ে লড়বে। তাদের পাশে ঘানা ও পানামা, যারা অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে কার্লোস কিরোজের অধীনে নতুনভাবে গড়ে ওঠা ঘানা এবং টমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের সংগঠিত পানামা এই গ্রুপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
গ্রুপ এল-এর ফিক্সচার
১৭ জুন ২০২৬: ঘানা বনাম পানামা, ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া
২৩ জুন ২০২৬: ইংল্যান্ড বনাম ঘানা, পানামা বনাম ক্রোয়েশিয়া
২৭ জুন ২০২৬: পানামা বনাম ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা
দল প্রিভিউ– ইংল্যান্ড
টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড একটি সুসংগঠিত, হাই-প্রেসিং করা ও টেকনিক্যাল দল। কোয়ালিফাইংয়ে তাদের রক্ষণ প্রায় দুর্ভেদ্য ছিল। তবে অতিমাত্রায় কেইন নির্ভরতা এখনও বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
আক্রমণ
বক্সে তার অবস্থান ও ফিনিশিং ইংল্যান্ডের প্রধান অস্ত্র। জুড বেলিংহ্যাম দ্বিতীয় প্রধান আক্রমণাত্মক শক্তি, যিনি মাঝমাঠ থেকে বক্সে লেট রান নিয়ে ঢুকে পড়েন, গোলও করেন। সাকা ও রাশফোর্ড উইং থেকে গতি ও ড্রিবলিং যোগ করেন। ইংল্যান্ডের আক্রমণ মূলত ৪-২-৩-১ সিস্টেমে চলে, যেখানে ফুলব্যাকরা উপরে উঠে প্রতিপক্ষকে আরও চাপে ফেলে।
মিডফিল্ড
ডেক্লান রাইস দলের রক্ষণাত্মক ভারসাম্য ধরে রাখেন। তার পাশে মিডফিল্ডাররা প্রেসিং ও বল রিকভারি নিশ্চিত করে। এই কাঠামো ইংল্যান্ডকে ট্রানজিশনে শক্তিশালী করে।
রক্ষণ
পিকফোর্ড গোলকিপার হিসেবে অভিজ্ঞ।সেন্টারব্যাক জুটি স্থিতিশীল হলেও ফুলব্যাকদের আক্রমণাত্মক ওঠানামা মাঝে মাঝে পেছনে স্পেস তৈরি করতে পারে।
চ্যালেঞ্জ
কেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ইনজুরি ঝুঁকি এবং মানসিক চাপ ইংল্যান্ডের প্রধান সমস্যা। বড় ম্যাচে এই চাপ আরও বাড়ে।
দল প্রিভিউ– ক্রোয়েশিয়া
লুকা মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ এটি। তার নেতৃত্বাধীন ক্রোয়েশিয়াও এখন তাদের তাদের সোনালী প্রজন্মকে নিয়ে শেষ বিশ্বকাপটা খেলে ফেলছে।
আক্রমণ
মদ্রিচ এখনও খেলায় টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করেন। ক্রামারিচ ও পেরিশিচ আক্রমণে অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা যোগ করেন। দলটি মূলত ধীর, নিয়ন্ত্রিত বিল্ডআপে খেলে।
মিডফিল্ড
মদ্রিচ ও কোভাচিচের জুটি দলের প্রাণ। এই জুটি থাকলে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে ইনজুরি সমস্যা বড় ঝুঁকি।
রক্ষণ
গেভার্দিওল থাকলে সেন্টারব্যাক লাইন আরও শক্তিশালী হয়। তার অনুপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে যায়। লিভাকোভিচ গোলকিপিংয়ে স্থিতিশীলতা এনে দেন।
চ্যালেঞ্জ
বয়স, ইনজুরি এবং হাই ইন্টেন্সিটির ম্যাচে ধীর গতি ক্রোয়েশিয়ার প্রধান সমস্যা। মদ্রিচের মিনিট ম্যানেজমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ।
দল প্রিভিউ–
ঘানাঘানা বড় ধাক্কা খেয়ে নতুন কোচ কার্লোস কিরোজের অধীনে এসেছে বিশ্বকাপে। তিনি দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কাঠামোতে রূপান্তর করার চেষ্টা করবেন।
আক্রমণ
মোহাম্মদ কুদুস মূল আক্রমণাত্মক শক্তি, তবে তার ফিটনেস অনিশ্চিত। সেমেনিও গতি ও শক্তি দিয়ে উইং থেকে আক্রমণ করেন। আয়েউ অভিজ্ঞতা যোগ করেন।
মিডফিল্ড
টমাস পার্তে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে মূল ভরসা। তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঘানার দুর্বলতা।
রক্ষণ
কিরোজ সাধারণত কমপ্যাক্ট রক্ষণ গড়ে তোলেন। সেন্টারব্যাক ইউনিট শৃঙ্খলাবদ্ধ হলেও ব্যক্তিগত মান সীমিত।
চ্যালেঞ্জ
কুদুসের ফিটনেস, কম সময়ে নতুন কোচের সিস্টেম সেট করা এবং মানসিকতা পুনরুদ্ধার—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ।
দল প্রিভিউ– পানামা
টমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনের পানামা একটি সংগঠিত দল। তারা ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেও ফিরে আসার ক্ষমতা রাখে।
আক্রমণ
মুরিলো আক্রমণের প্রধান উৎস, যদিও তিনি একজন ফুলব্যাক। কারাসকিলা মিডফিল্ডে সৃজনশীলতা দেন। ওয়াটারম্যানের এরিয়াল উপস্থিতি সেট পিসে গুরুত্বপূর্ণ।
মিডফিল্ড
গোডয় অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে দলকে স্থিতিশীল রাখেন। তার সামনে কারাসকিলা আক্রমণ গঠন করেন।
রক্ষণ
৪-২-৩-১ কাঠামোতে পানামা বেশি স্থিতিশীল। তবে উইং থেকে দ্রুত আক্রমণে সেন্টারব্যাকরা চাপের মুখে পড়ে।
চ্যালেঞ্জ
ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে রক্ষণ ধরে রাখা এবং আক্রমণে কার্যকারিতা বাড়ানো।
প্রেডিকশন
ইংল্যান্ড এই গ্রুপ জিতবে তাদের স্কোয়াড ডেপথ ও কৌশলগত শৃঙ্খলার কারণে। ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয় স্থানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাদের বয়স ও ইনজুরি সমস্যা প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘানার ভাগ্য নির্ভর করছে পানামার বিপক্ষে ম্যাচে। সেখানে হার মানে কার্যত বিদায়ের পথ খুলে যাবে। পানামা একটি ম্যাচ জিততে পারে, তবে নকআউটে যাওয়া কঠিন।