মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস, রমেক পরিদর্শনে তিন এমপি

মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস, রমেক পরিদর্শনে তিন এমপি

সংগৃহীত ছবি

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর এবং পরবর্তী সময়ে ছেলেকে কান ধরে উঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আলোচিত এ ঘটনার জেরে রবিবার রংপুরের তিন সংসদ সদস্য (এমপি) রমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্‌বেগজনক বিষয় হলো, কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতাল দালালে ছেয়ে গেছে। তিনি চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জাানান। 

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ও রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী।  

গোলাম রব্বানী বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা শুধু রংপুরের নয়, এটি সারা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত ও জনবল সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের পর ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।’

হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা নুর নাহার বেগমকে (৬২) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ সময় নুর নাহার বেগমের পরিবারের সদস্যরা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম হোসেনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মরদেহ আটকে রেখেছেন এমন অভিযোগ এনে রোগীর স্বজনরা মেডিকেল মোড়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। 

অন্যদিকে, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেন পরিচালকের কার্যালয়ে রয়েছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে সেখানে জড়ো হন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। তারা পরিচালক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে রিফাত হোসেনকে ১০ বার কান ধরে উঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভাইরাল ভিডিও এবং মরদেহ হস্তান্তরের আগে কান ধরে উঠবস করানোর অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।