মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামী দ্বন্দ্বে একজন খুন!

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক স্ত্রী নিয়ে দুই স্বামী দ্বন্দ্বে একজন খুন!

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ // ছবিঃ সংগৃহিত।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক নারীকে নিয়ে দুই স্বামীর দ্বন্দ্বের জেরে প্রথম স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আইনি ডিভোর্স না দিয়ে ওই নারী দ্বিতীয় সংসার শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রীর আগের স্বামী অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ ভোরে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের সেরাজাবাদ এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও লৌহজং থানা পুলিশ দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুন গভীর রাতে নিজ বাড়ির উঠানে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী সোহেল মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে তার মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মা শেফালী বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে লৌহজং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর তদন্তে নামে থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত সোহেলের স্ত্রী নুপুরের সাবেক স্বামী দ্বীন ইসলামের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

দ্বীন ইসলামের জবানবন্দি ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেছেন, নুপুরের সঙ্গে তার অগে বিয়ে হয়েছিল। তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে নুপুর স্বামী ও সন্তানকে রেখে, কোনো ডিভোর্স না দিয়েই সোহেলের সঙ্গে চলে যান। তারা নতুন সংসার শুরু করেন।

এই ঘটনায় দ্বীন ইসলাম রাগ থেকে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন প্রায় ১৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সোহেলের বাড়িতে হাজির হন। গভীর রাতে প্রথমে তিনি সোহেলের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘরের বাইরে আগুন জ্বলতে দেখে তা নেভাতে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই ধারালো চাপাতি দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালায় দ্বীন ইসলাম। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোহেলের।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামির পালিয়ে যাওয়ার সূত্র ধরে পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেখানে ঘটনার পর অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। দ্বীন ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোহেল ও নুপুরের দুই মাস বয়সী ছেলেসন্তান রয়েছে।

দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানালেন পুলিশ সুপার।