জবিতে ছাত্রশিবিরের ৩ দিনব্যাপী নবীনবরণ শুরু

জবিতে ছাত্রশিবিরের ৩ দিনব্যাপী নবীনবরণ শুরু

ফাইল ফটো

হাজারো নবীন শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাখার আয়োজনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিনে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, এ তিন অনুষদ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও অনুষ্ঠানে অংশ নেন এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের এবং তৃতীয় দিনে বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ভালো ফল করার জন্য নয়, বরং নিজেকে সৎ, দক্ষ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়।’

তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ইসলামী আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, সত্য ও ন্যায়ের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, ‘শুধু স্লোগান, মিছিল-মিটিং ও আনন্দ-ফুর্তির মধ্য দিয়ে একটি জাতি কখনো গড়ে উঠতে পারে না। একটি জাতি তখনই উন্নতির শিখরে পৌঁছায়, যখন সেখানে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সমন্বয় ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা মূলত শিল্পমুখী। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালুর আগে সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বিবেচনা করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী শিক্ষা ও চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।’

প্যানেল আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘সত্যিকারের প্রতিভা ও যোগ্যতা থাকলে একদিন পৃথিবীই তোমাদের খুঁজে নেবে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্য স্থানে যোগ্য মানুষকে প্রতিষ্ঠা করাই গুরুত্বপূর্ণ।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের জবি শাখার সাবেক সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছে এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেছে, যার প্রতিফলন জকসু নির্বাচনে দেখা গেছে।

তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও আল্লাহর নির্দেশনাকে সামনে রেখে মেধা, মনন ও নৈতিকতার মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ফারহানা বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। এখানে আমাদের কোরআন, ব্যাগসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বক্তাদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য আমাদের উৎসাহিত করেছে এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরআন, বই, কলম, ব্যাগ, ছাত্রশিবিরের পরিচিতিমূলক বুকলেটসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি ও জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. নাসির উদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সাদী এবং রাশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকসের ক্যান্ডিডেট অব সায়েন্স ড. মো. নূরুল হাসান।

এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের জবি শাখার অন্যান্য নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।