চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলাম : ফরিদা জালাল
ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের এমন খুব কম অভিনয়শিল্পী আছেন যারা ফরিদা জালালের মতো দীর্ঘ সময় ধরে পর্দায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা ও জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সক্রিয় এবং ভালোবাসার এক নাম তিনি। তার এই জনপ্রিয়তার সবশেষ প্রমাণ মিলল ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতে। এই সিনেমায় তিনি ‘বডি বি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার সংলাপগুলো ছিল কিছুটা অসংলগ্ন ও অস্পষ্ট।
অথচ পর্দায় এই অদ্ভুত চরিত্রটি দেখার পর থেকেই দর্শকরা তাকে ভালোবাসায় ভাসাচ্ছেন। চরিত্রটি নিয়ে ফরিদা জালাল বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপা, সবাই দারুণ প্রশংসা করছেন। সব জায়গা থেকে শুভকামনা আসছে। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’
পুরোদস্তুর কমেডি ঘরানার এই সিনেমার শুটিংয়ের দিনগুলোও ছিল দারুণ মজার। ফরিদা জালাল জানান, সেটটি ছিল ঠিক একটি রাজকীয় পিকনিকের মতো। সবাই প্রচণ্ড আনন্দ করেছেন এবং একে অপরের খেয়াল রেখেছেন। ভালোবাসা, আনন্দ আর কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই সিনেমা।
প্রথম লটের শুটিং শিডিউল বেশ কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম শিডিউলটি ছিল তীব্র গরমের মধ্যে। আমার মনে আছে, তখন সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকার জন্য সরকারি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। আর আমরা সেই তীব্র রোদের মধ্যে শুটিং করছিলাম। আমি রাভীনাকে (ট্যান্ডন) বলেছিলাম মানুষ মনে করে অভিনয়শিল্পীদের জীবন কেবলই জাঁকজমকপূর্ণ, কিন্তু এভাবেই আমরা আমাদের রুটি-রুজি উপার্জন করি। এর পেছনে অনেক কঠোর পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই প্রাপ্তি তাকে কৃতজ্ঞতায় ভাসায়। ফরিদার কথায়, ‘এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি জার্নি। এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে? মানুষ আজও আমার প্রথম সিনেমা ‘আরাধনা’ (১৯৬৯)-র কথা মনে রেখেছে। আমি কেবলই মানুষের ভালোবাসা আর প্রশংসা পেয়েছি। দর্শকরা আমার কাছে আসেন, হাত জড়ো করে ধরেন এবং শেয়ার করেন যে কীভাবে আমার চরিত্রটি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে যা যা করা সম্ভব, তার সবটুকু করার ইচ্ছের পরও অনেক সময় আমার মনে হয়েছে আমাকে শুধু ‘মা’ চরিত্রের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই আটকে রাখা হয়েছে। আমি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলাম যেটির হাঁটার ধরন আলাদা হবে, বসার ভঙ্গি আলাদা হবে, যার শারীরিক ভাষা হবে ভিন্ন। আমি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলাম।’