১৪১ রান করেও বাংলাদেশকে ২৫ রানে হারাল জিম্বাবুয়ে
ছবি: সংগৃহীত
জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৪২ রান। এমন লক্ষ্য সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব কঠিন মনে করা হয় না। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই সহজ সমীকরণই বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। হারারেতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। ফলে একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও শুরু হলো হতাশাজনক পরাজয় দিয়ে।
হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। এতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। মাত্র ৭০ রানের মধ্যেই ৮ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
তবে নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ রানের জুটি স্বাগতিকদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। নিয়ামহুরি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৪১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইতিহাস গড়েন নাহিদ রানা। মাত্র ২১ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা ব্যক্তিগত বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই কীর্তির মূল্য দিতে পারেনি দল।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৭ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে প্রথম তিন ব্যাটারকে। পরে তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে আশা জাগালেও সেই সম্ভাবনা বেশিক্ষণ টেকেনি।
হৃদয়ের বিদায়ের পর দ্রুত মোসাদ্দেক হোসেনও ফিরে গেলে আবার চাপে পড়ে সফরকারীরা। শেষদিকে জিম্বাবুয়ের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ৪২ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় দল।
বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন নুরুল হাসান সোহান। জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্রাড ইভান্স তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানি দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
একমাত্র টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে সিরিজও পরাজয় দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। সিরিজে সমতা ফেরাতে এখন পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই টাইগারদের সামনে।