আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গোনেন? হতে পারে এসব মারাত্মক রোগ!
ফাইল ছবি
রোজকার লেনদেনে অসংখ্যবার টানা গুনতে হয় আমাদের। আর টাকা গোনার সময় একটি কাজ প্রায় প্রতিটি মানুষ করে থাকেন। সেটি হলো আঙুলে জিভের থুতু বা লালা লাগানো। এটি অনেকটা আমাদের মজ্জাগত অভ্যাস বলা যায়। ব্যাংক থেকে শুরু করে হাট-বাজার, দোকানপাট সবখানে রোজ হাজার হাজার মানুষ অবলীলায় কাজটি করে চলেছেন।
সাধারণ চোখে আঙুলে লালা লাগিয়ে টাকা গোনার বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে এটি আসলে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক। এই অভ্যাসের মাধ্যমে অজান্তেই শরীরে মারাত্মক সব জীবাণুর প্রবেশ করাচ্ছেন আপনি। যা আপনাকে সহজেই পৌঁছে দিতে পারে হাসপাতালের আইসিইউ পর্যন্তও।
সম্প্রতি বিভিন্ন মেডিকেল জার্নাল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রে এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির (New York University – NYU) একদল গবেষক কাগজের নোট বা কারেন্সি নোটের ওপর একটি বিশেষ গবেষণা চালিয়েছিলেন। ‘ডার্টি মানি প্রজেক্ট’ (Dirty Money Project) নামের এই গবেষণার রিপোর্টে দেখা গেছে, একটি সাধারণ কাগজের নোটে প্রায় ৩ হাজার বা তারও বেশি প্রজাতির বিভিন্ন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক (Fungus) ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে।
মানুষের হাত ঘুরে ঘুরে টাকা যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়, তখন তার সঙ্গে যুক্ত হয় ধুলোবালি, ঘাম এবং পরিবেশের নানাবিধ নোংরা। গবেষকরা নোটের গায়ে এমন কিছু ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা সাধারণত ড্রেন বা শৌচাগারের আশেপাশে দেখা যায়।
থুথুর মাধ্যমে কীভাবে ছড়ায় সংক্রমণ?
চিকিৎসকদের মতে, কেউ যখন জিভের লালা আঙুলে লাগিয়ে টাকা গোনেন, তখন দুটি মারাত্মক ঘটনা ঘটে।
১. নোটের গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস আঙুলের মাধ্যমে সরাসরি মুখের ভেতর অর্থাৎ পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে।
২. মুখে কোনো ইনফেকশন বা ভাইরাস থাকলে তা টাকার মাধ্যমে অন্য আরেকজন সুস্থ মানুষের হাতে চলে যায়।
এই অভ্যাসের কারণে কী কী মারাত্মক রোগ হতে পারে?
মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের কারণে মূলত নিচের রোগগুলো হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
নোটে থাকা ‘সালমোনেলা’ (Salmonella) এবং ‘ই-কোলাই’ (E. coli) ব্যাকটেরিয়া মুখের লালার মাধ্যমে পেটে গেলে দেখা দিতে পারে তীব্র পেটে ব্যথা, ডায়েরিয়া, বমি এবং টাইফয়েডের মতো মারাত্মক ইনফেকশন।
নোটে ‘স্ট্যাফাইলোকক্কাস’ (Staphylococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, যা মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ত্বকে মারাত্মক ফোঁড়া, চুলকানি বা ইনফেকশন তৈরি করতে পারে।
কাগজের নোটে থাকা বিভিন্ন ছত্রাক বা ফাঙ্গাল স্পোর লালার মাধ্যমে শ্বাসনালীতে গিয়ে ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে, যা ক্রনিক শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ছোট্ট একটি বদ অভ্যাস অনেক বড় রোগের কারণ হতে পারে। তাই আজই এই অভ্যাস ছাড়ুন প্রয়োজনে পানিতে ভেজানো স্পঞ্জে আঙুল লাগিয়ে টাকা গুনুন।