বৃষ্টিতে ভিজলেই কি চুল পড়ে?
ফাইল ছবি
বৃষ্টি পছন্দ হোক বা না হোক বর্ষা এলে আপনাকে ভিজতেই হবে। আর সেইসঙ্গে ভিজে যাবে আপনার ঘনকালো চুল। বাড়বে চুল পড়া - কি মহাবিপদ! তাই না? আপনারও কি মনে হয় - বৃষ্টিতে ভিজলেই চুল পড়ে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সত্যিটা -
বৃষ্টি ও চুল পড়ার সম্পর্ক
বৃষ্টির পানি সরাসরি আপনার চুল পড়ার কারণ হতে পারে না।
বর্ষা মৌসুমে মেঘলা দিনে বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালো লাগে! আর এই আনন্দের মাঝে পানি ঢেলে দেয় চুল পড়ার ভয়। তবে বৃষ্টির পানিতে মূলত এমন কোনও উপাদান থাকে না যা আপনার চুল পড়ার সরাসরি কারণ হতে পারে।
তবে বৃষ্টির পানিতে বাতাসে থাকা দূষণ ও রাসায়নিক উপাদান মিশলে সেটি কিছুটা অম্লীয় হতে পারে, যা মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট করে চুলকানি ও খুশকি তৈরি করে। আর এটি সবচেয়ে বেশি হয় শহরাঞ্চলে। শহরের তুলনায় গ্রামের বৃষ্টির পানি তুলনামূলক নিরাপদ।
বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি চুল ঝরে।
বর্ষাকালে চুলের গোড়া কেন দুর্বল হয়?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় চুল পরিবেশ থেকে হাইড্রোজেন শোষণ করে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে এসময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি চুল ঝরতে পারে।
এছাড়া আর্দ্রতার কারণে হওয়া ঘাম ও মাথার ত্বকের ময়লা মিলে চুলের ফলিকল আটকে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পর চুলে তাড়াতাড়ি না শুকালে মাথার ত্বকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া সহজে বংশবিস্তার করে। এতে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুলপড়া বাড়ে।
ক্ষতি এড়াতে করণীয়
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে বৃষ্টিতে ভেজার পরপরই মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন। এরপর চুলে কন্ডিশনার ও সিরাম ব্যবহার করবেন।
দুর্গন্ধ ও ছত্রাক রোধে ফ্যানের বাতাসে চুল দ্রুত শুকিয়ে নিতে হবে।
বৃষ্টিতে ভেজার পরপরই মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন।
বাইরে বের হওয়ার আগে চুলে হালকা তেল ম্যাসাজ করে নেবেন। এই অভ্যাস বৃষ্টির পানির ক্ষতিকর উপাদান থেকে চুলকে সুরক্ষা দেবে।
চুলের ঘরোয়া যত্ন
চুলের যত্নে মুলতানি মাটি ও লেবুর রসের হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাথার ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে।
চুলে তেল দেবেন।
মেথি ও টক দইয়ের মিশ্রণ চুলের গোড়া শক্ত রাখে।
গ্রিন টি ও অ্যালোভেরা জেল চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করে।
সতর্কতা
অতিরিক্ত স্টাইলিং ও হিটিং মেশিনের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
বর্ষায় চুলের ক্ষতি এড়াতে ভেজা চুল আঁচড়ানো, অতিরিক্ত স্টাইলিং ও হিটিং মেশিনের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।
একইসঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিন, ভিটামিন-ই ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে বর্ষাতেও আপনার চুল থাকবে প্রাণবন্ত ও সুরক্ষিত।