ব্রহ্মপুত্র-ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি, কমেছে তিস্তা ও করতোয়ার পানি
সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাবে কমেছে তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি। বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও এসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯০ সেমি ও ঘাঘট নদের পানি ২৪ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১৭ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে করতোয়া নদীর পানি ৬ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৯৩ সেমি ও তিস্তার পানি ২৩ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসাীমার ২৪ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
এদিকে মাসখানে ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠা-নামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতমধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে ২ শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সারিয়ে নিচ্ছেন।
ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ।
সব থেকে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে। ভাঙন দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নেও। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে পূর্বে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ হঠাৎ তিনটি স্থানে ধসে গেছে। এর মধ্যে এক স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য স্থানে ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার এলাকা ডেবে যায়। ধসে যাওয়া তিনটি স্থানের মধ্যে দুটি সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকায় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে জোড়ালো কোন পদক্ষেপ না থাকায় চাপা ক্ষোভ, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
এদিকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গাইবান্ধার ৭ উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ১৫৪ টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে জেলার ৩০৫ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৭টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে এক হাজার ১৫৪টি পুকুর ও দিঘি এবং প্রায় ১৫০.৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে ৩৮৫টি পুকুর, ও দিঘি এবং প্রায় ৩১.২৩ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সদর উপজেলায়। সেখানে ১৩.৪৫২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রাশেদ বলেন, এতে জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ৮ লাখ ৮৫৫ টাকা। মৎস্য খাতের পাশাপাশি কৃষির বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ১২৭ হেক্টর আউশ ধান, ৯০.৫ হেক্টর শাক-সবজি, এবং ৫ হেক্টর পাট, ২.৫ হেক্টর মরিচসহ সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসেবে ৩০৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তারের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সব মিলে জেলায় ৩০৫ হেক্টর জমির ৪ হাজার ১৬ জন কৃষকের আবাদ নষ্ট হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রনোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন ঠেকাতে কাজ চলছে। চলমান পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত চার উপজেলায় ৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।