রংপুরে কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা, স্বস্তি মাছ মাংস ডিমে
সংগৃহীত ছবি
টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকার সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারে কমেছে সবজির সরবরাহ।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ২৬০ এবং খুচরা বাজারে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পেঁয়াজসহ বেশির ভাগ সবজির দাম।
তবে চাল, মাছ, মাংস, ডিম ও বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রংপুর নগরীর পৌর বাজার, ধাপ বাজার, কামাল কাছনা বাজার, মডার্ন মোড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ পাইকারিতে ২৬০ এবং খুচরায় ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে একই মরিচের দাম ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। পেঁয়াজের দামও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
সবজির বাজারে টমেটোর দাম কিছুটা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় নেমে এলেও বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০, চালকুমড়া (প্রতি পিস) ৪০ থেকে ৫০, কাঁচকলা (হালি) ৩০ থেকে ৩৫, দুধকুষি ৫০ থেকে ৬০, শসা ৯০ থেকে ১০০, চিকন বেগুন ৭০-৮০, গোল বেগুন ১০০-১২০, পটোল ৫০-৬০, ঢেঁড়স ৬০-৭০, বরবটি ৭০-৮০, করলা ৮০-৯০, লাউ ৫০-৬০, কচুরলতি ৭০-৮০, কচুরমুখি ৫০-৬০ এবং মিষ্টিকুমড়া ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার কেজি ২০০-২৫০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকায়।
এ ছাড়া শুকনা মরিচ ৩৫০-৪০০ টাকা, দেশি আদা ২২০-২৪০, আমদানি করা আদা ১৬০-১৮০, দেশি রসুন ১০০-১২০ এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই।
কার্ডিনাল আলু ২০-২৫ টাকা, সাদা আলু ৩০-৩৫, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩০-৩৫, শিল আলু ৪৫-৫০ এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পৌর বাজারের সবজি বিক্রেতা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজিক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। অনেক গাছ নষ্ট হয়েছে। ফলে কাঁচা মরিচসহ বেশির ভাগ সবজির সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনেও দাম আরো বাড়তে পারে।’
ধাপ বাজারের ব্যবসায়ী নুরুল হক বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় কম। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সে কারণে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নতুন সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে।’
অন্যদিকে মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার ১৭০-১৯০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩২০-৩৩০, পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৯০-৩০০, পাকিস্তানি লেয়ার ৩২০-৩৩০ এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০, চিকন মসুর ডাল ১৭০-১৮০, মাঝারি মসুর ১০০-১১০, মুগডাল ১৫০-১৬০, বুটের ডাল ১১০-১২০, খোলা চিনি ১০৫-১১০, ছোলা ৯০-১০০, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০, খোলা আটা ৪০-৪৫ এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। ইলিশ এক হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা, রুই ৩০০-৩৮০, টেংরা ৪০০-৫৬০, পাবদা ৩৫০-৪০০, মৃগেল ২২০-২৫০, কার্প ২৫০-২৬০, পাঙ্গাশ ১৫০-২৫০, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, কাতল ৩০০-৫০০, বাটা ১৮০-২৪০, শিং ৩০০-৪০০, সিলভার কার্প ১৮০-২৬০ এবং গজার মাছ ৮০০-এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পৌর বাজারে ২৪ কেজি ওজনের একটি পাঙ্গাশ মাছ ২৫ হাজার টাকা দাম হাঁকতে দেখা গেছে, যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘জেলার বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’