ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা খরায় আক্রান্ত, ধেয়ে আসছে তীব্র তাপপ্রবাহ
সংগৃহীত ছবি
ইতিহাসের সবচেয়ে শুষ্কতম জুলাই মাসের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই নজিরবিহীন ‘ফ্ল্যাশ খরা’ বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া খরার কবলে পড়েছে ইংল্যান্ড। দেশটিতে চলতি গ্রীষ্মেই রেকর্ড পঞ্চম তাপপ্রবাহ এবং তীব্র দাবদাহের পূর্বাভাস থাকায় এই পানিসংকট সামনে আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় ৭১.৩ শতাংশ এলাকা এখন খরাকবলিত। টানা অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দেশের নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গেছে। যে মাঠগুলো বছরের এই সময়ে সবুজে ঘেরা থাকার কথা, তা এখন শুকিয়ে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এর ফলে ফসলের উৎপাদন কমে গিয়ে দেখা দিতে পারে তীব্র খাদ্যসংকট।
পরিবেশ বিভাগ (ডেফরা) জানিয়েছে, মধ্য ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডস ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল নতুন করে খরার কবলে পড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আগস্টের শুরুতেও রেকর্ড অনাবৃষ্টির কারণে যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ১০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশের কোনো অঞ্চলেরই পানির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় নেই। বিগত পাঁচ বছরে এটি দেশটির তৃতীয় খরা।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট ৬ কোটি ৯৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষই খরাকবলিত এলাকায় বসবাস করছেন। পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ ও হোসপাইপ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি নাগরিক। অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন রক্ষায় কৃষকদের সেচের ওপরও নানা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ন্যাশনাল ড্রট গ্রুপের প্রধান টনি গ্রেলিং বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই শুষ্ক আবহাওয়া পরিবেশ ও কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।