সৌরভ গাঙ্গুলী ও তার স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

সৌরভ গাঙ্গুলী ও তার স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী এবং তার স্ত্রী দোনা গাঙ্গুলীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধারাবাহিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার কলকাতা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহতভাবে আসা হুমকিচিঠির পর সম্প্রতি সৌরভ ও তার স্ত্রীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। 

এ ঘটনায় ভারতীয় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিশ চিঠিগুলোর উৎস ও প্রেরকের পরিচয় শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সৌরভ গাঙ্গুলীর কার্যালয়ে সোমবার সবশেষ হুমকিচিঠিটি পৌঁছানোর পরপরই দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়কের নামে এমন একাধিক হুমকিচিঠি এসে পৌঁছালেও শুরুতে বিষয়টি হালকাভাবে দেখা হয়েছিল এবং তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে সোমবার সৌরভের কার্যালয়ে পাওয়া দুটি চিঠিতে পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। চিঠিতে সৌরভ ও তার স্ত্রী দোনা গাঙ্গুলীকে সরাসরি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ও অধিনায়কের ম্যানেজারের মাধ্যমে ঠাকুরপুকুর থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। খবর পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু ও প্রেরকের আসল উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। পুরো বিষয়টি উন্মোচনে প্রেরক ও মূল অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করতে চিঠির বিষয়বস্তু, প্রাপ্তির মাধ্যম এবং কুরিয়ার ট্রেইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চিঠিগুলো কোনো একটি নিবন্ধিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং তা সম্ভবত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘড়িয়া এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে।

অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং প্রেরক কর্তৃক ব্যবহৃত কথিত সিম কার্ডটির গতিবিধি নজরদারিতে এনেছেন। এ বিষয়ে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তারা ইতিমধ্যেই কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং একটি সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন, যার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সবকটি হুমকিচিঠি একই ব্যক্তি পাঠিয়েছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো দল বা মতলব রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি