নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারি গুদামে ধান কেনা বন্ধ, দিশেহারা কৃষক

নির্ধারিত সময়ের আগেই সরকারি গুদামে ধান কেনা বন্ধ, দিশেহারা কৃষক

সংগৃহীত ছবি

 

সরকার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই গাইবান্ধায় বোরো ধান সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সময় থাকলেও গত ৯ আগস্ট থেকে সরকারি গুদামে ধান কেনা বন্ধ রয়েছে। এতে কম দামে স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫৬৩ মেট্রিক টন। গত ১২ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

জেলার ১১টি খাদ্যগুদামে ধান ও চালের মোট ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে মজুদ রয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। খাদ্য বিভাগের দাবি, ধারণক্ষমতা ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হওয়ায় সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ মোটা ধান ৮৫০ টাকা এবং চিকন ধান ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারি সংগ্রহমূল্য প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। ফলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের কাটিহারা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ। ধান-চাল বিক্রি করে সংসার চালাই, ধারদেনাও মেটাই। বাজারে ধানের দাম কম। সরকারি গুদামেও ধান বিক্রি করতে পারছি না।’

গিদারী ইউনিয়নের কালির বাজার এলাকার কৃষক মঞ্জিল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার টাকার নিচে। এই দামে ধান বিক্রি করলে লোকসান হবে। সরকারি গুদামও ধান কিনছে না। ফলে ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছি।’

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ক্রোড়গাছা গ্রামের কৃষক আমজাদ আলী সরকার বলেন, ‘এ বছর প্রায় ২০০ মণ বোরো ধান উৎপাদন করেছি। এর মধ্যে ৮০ মণ খাওয়ার জন্য রেখে বাকি ১২০ মণ বিক্রি করে ধারদেনা মেটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজারে দাম কম হওয়ায় ধান বিক্রি করলে লোকসান হবে।’

একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মইনুল ইসলাম, ঘাগোয়া ইউনিয়নের মজিবর রহমান, গিদারী ইউনিয়নের আয়নাল হকসহ আরও কয়েকজন কৃষক।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, জেলার অধিকাংশ কৃষক পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ নেই। ধান-চালের ওপর নির্ভরশীল এসব কৃষকের গোলায় এখনো উদ্বৃত্ত ধান রয়েছে। অথচ খাদ্য বিভাগ ধান কিনছে না। তিনি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ১৭৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত বোরো ধানের পরিমাণ ৯৭ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ধান কেনা হয়েছে। তাই ধান ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে।’