দাবানলে পুড়ছে পর্তুগাল, আগুন নেভাতে কাজ করছে ২০০০ দমকলকর্মী

দাবানলে পুড়ছে পর্তুগাল, আগুন নেভাতে কাজ করছে ২০০০ দমকলকর্মী

ফাইল ছবি।

পর্তুগাল জুড়ে তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করায় ছড়িয়ে পড়া গ্রামীণ দাবানল নেভাতে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুই হাজারের বেশি জরুরি সেবা কর্মী।তাদের সহায়তায় নিয়োজিত রয়েছে অন্তত ২০টি বিশেষ বিমান।  

মঙ্গলবার দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পর্তুগিজ ভূখণ্ড জুড়ে একাধিক ভয়াবহ ল্যান্ডফায়ার দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশটির একটি বড় অংশজুড়ে চরম অগ্নিঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট ফর সি অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির নয়টি জেলাকে অরেঞ্জ অ্যালার্টের আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়া রাজধানী লিসবন, সেতুবাল এবং ফারো ব্যতীত পুরো মূল পর্তুগাল জুড়ে ইয়োলো সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। জাতীয় জরুরি ও সিভিল প্রোটেকশন অথরিটি প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং প্রায় সর্বত্রই বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অস্বাভাবিক কম থাকবে।বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যভাগের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে দাবানলের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

এ জন্য সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে যে কয়েকটি জায়গায় আগুন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে, তার মধ্যে উত্তর-পূর্বের ব্রাগানসা জেলার তোরে দে মনকোর্ভোর দাবানলটি অন্যতম। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে এরই মধ্যে দুই হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে কাজ করছেন ৪ শতাধিক জরুরি কর্মী এবং প্রায় ১৪০টি গাড়ি।

স্থানীয় মেয়র জোসে মেনেসেস জানিয়েছেন, একটি সক্রিয় ফ্রন্ট এখনও রয়ে গেলেও বিকেলের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তা পুরোপুরি নেভানোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তারা। অন্যদিকে উপকূলীয় আভিইরো জেলার আরৌকাতে সোমবার রাতে নতুন করে আগুন লাগে, যার চারটি সক্রিয় ফ্রন্ট সামলাতে মাঠে নেমেছেন ৩০০ কর্মী। একই সঙ্গে পোরতো মেট্রোপলিটন এলাকার সানতো তিরসোতেও প্রায় ৯০০ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সেখানে ২০০ জন কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, পর্তুগালকে আগামীতে আরও কয়েক সপ্তাহের জন্য মারাত্মক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।