কুষ্টিয়ায় চুরি হওয়া ৬ হাজার টন চালসহ গ্রেফতার ৫

কুষ্টিয়ায় চুরি হওয়া ৬ হাজার টন চালসহ গ্রেফতার ৫

প্রতিকি ছবি

 

কুষ্টিয়ার খাজানগরের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে ১৩ মেট্রিক টন চাল কিনে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের  বিরুদ্ধে কৌশলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টানা দুদিনের অভিযানে ঝালকাঠি ও বরিশালে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চুরি হওয়া ১৩ টন চালের মধ্যে প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৪০), মৃত মোফাজ্জেল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৮), শাহ আলম খানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান রাজু (৩২),  মৃত শৌকে আলী খান তালুকদারের ছেলে মো. বাদশা তালুকদার (৬৫) এবং ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. আলম হাওলাদার (৫০)। বাকি চার আসামির বাড়ি ঝালকাঠি জেলার গাবখান ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেম (৪৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার ‌নূর অটো রাইস মিলের মালিক ব্যবসায়ী হাজি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে দুইবার ক্রয় করেন।গত ১৫ আগস্ট প্রতারক কাশেম মোবাইল ফোনে ১৩ টন চাল ক্রয়ের কথা বলে।

ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে পরের দিন সন্ধ্যায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ টন চাল আসামির পাঠানো ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের মাধ্যমে ঢাকার কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রতারক কাশেমের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পওয়া যায়। এরপর তিনি ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। মোবাইলে ওই ট্রাক চালক ২০ আগস্ট রাত একটার সময় চাউল কাশেমের ঠিকানায় পৌঁছে দেয় বলে জানায়।

পরবর্তীতে কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রটি কৌশলে ট্রাকটি ঢাকার বাবু বাজার টিন পট্টিতে নিয়ে যায়। এরপর আরেকটি ট্রাক করে ১৩ মেট্রিন টন চাল আনলোড করে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রতারক কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ঝালকাঠি এবং বরিশালে দুই জায়গায় চাল লুকিয়ে রেখেছিল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। মূল আসামি ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেমসহ প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।