ঘি বা পরিশোধিত মাখনের যত উপকারিতা, কতটুকু খাবেন

ঘি বা পরিশোধিত মাখনের যত উপকারিতা, কতটুকু খাবেন

ফাইল ছবি

ঘি বা পরিশোধিত মাখন রান্নাঘরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। উৎসবের মিষ্টিতে, পায়েসে কিংবা মুখরোচক বিরিয়ানি রান্নায় স্বাদটা আরও ভালো করার জন্য এক চামচ ঘিয়ের কোনো তুলনা নেই। 

তবে, কোনো খাবার যখন নিরাপদ বলে মনে হয় এবং একই সঙ্গে সুস্বাদু হয়, তখন মানুষ সাধারণত সেটার পরিমাণ মাপার কথা ভাবে না। আর সেখান থেকেই স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

ঘি কেন এত নিরাপদ মনে হয়

আয়ুর্বেদের মতো প্রাচীন শাস্ত্রে ঘিকে শুধু রান্নার তেল বা চর্বি হিসেবে নয় বরং স্বাস্থ্য ও সুস্থতার একটি অংশ হিসেবেও দেখা হয়েছে। কিন্তু ঘিতে প্রায় ৬২ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে এবং ১০০ গ্রাম ঘিতে প্রায় ৮৮৩ কিলো ক্যালরি শক্তি থাকে। অর্থাৎ, খুব অল্প পরিমাণের একটি খাবারের মধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি লুকিয়ে থাকে, যা আমরা অনেক সময় না ভেবেই ব্যবহার করি।

ডালে ফোড়ন দেওয়ার সময় এক চামচ, ভাতে আরেকটু, রুটির সঙ্গে আরও এক চামচ এভাবে ঘি দিলে স্বাদ অনেক ভালো লাগে। প্রতিবারই পরিমাণটা সামান্য এবং নিরীহ বলে মনে হয়। কিন্তু দিনের পর দিন বা সপ্তাহজুড়ে এগুলো খেলে মোট পরিমাণটি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর হতে পারে।

অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট আসলে কী করে

স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হলে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীর থেকে এমনিতেই অদৃশ্য হয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে এটি ধমনির দেয়ালে জমতে পারে এবং ধীরে ধীরে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত করতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিদিন কতটা ঘি খাওয়া ঠিক?

ঘি ভালো না খারাপ এই বিতর্কের মধ্যে মূল বিষয়টি অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। বিষয়টি আসলে পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা দৈনিক মোট রান্নার চর্বির অংশ হিসেবে প্রায় ১–২ চা চামচ ঘি গ্রহণ করতে পারেন। তবে তেল, ঘি ও মাখন সব ধরনের চর্বি মিলিয়ে দৈনিক মোট পরিমাণ ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপ ও ক্যালরির চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে এটি প্রায় ২০–৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়; কিছু ক্ষেত্রে আরও কম পরিমাণ লক্ষ্য করা হয়।

যাদের ইতোমধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা উচিত। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘির পরিমাণ কমিয়ে সরিষা, চিনাবাদাম বা তিলের মতো উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঘিকে ক্ষতিকারক ভাবার প্রয়োজন নেই। শুধু বেশি ব্যবহারের বদলে পরিমাপ মতো রান্নায় ব্যবহার করাই যথেষ্ট। পরিমাণটা ঠিক রাখতে পারলে এটি শরীরের জন্য উপকারী। 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি