এশার পর তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যাবে?

এশার পর তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যাবে?

ফাইল ছবি

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাহাজ্জুদ পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাহাজ্জুদের নামাজ মৌলিকভাবে ‘কিয়ামুল লাইল’র অন্তর্ভুক্ত। এটা মুসল্লি বা তাহাজ্জুদ আদায়কারীর অবস্থাভেদে বিবেচ্য। কারণ, রাতে ঘুমের পর কেবল নামাজ আদায়ের জন্য জাগ্রত হওয়াই হলো- তাহাজ্জুদ। চাই তা অল্প সময়ের জন্য হোক বা বেশি সময়ের। আর কিয়ামুল লাইল হলো, নামাজ, জিকির, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদির সমষ্টি। এগুলো রাতের যেকোনো অংশে হতে পারে।

তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি হাদিসের বর্ণনা অনুসারে এভাবে হতে পারে—  যে তাহাজ্জুদ আদায় করতে চায়, সে এশার নামাজ শেষে ঘুমিয়ে পড়বে। চাই তা অল্প সময়ের জন্য হোক। এরপর রাতের মধ্য ভাগে জেগে অল্প সময়ে দুই রাকাত নামাজ পড়বে। এরপর যত রাকাত ইচ্ছে নামাজ আদায় করবে, তবে নামাজ দুই রাকাত করে হতে হবে। দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরাবে, আবার দুই রাকাত পড়বে...। এভাবে যত রাকাত সম্ভব, তাহাজ্জুদ আদায়ের পর বিতর নামাজ আদায় করবে। 

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরাইরাহ (রা.)  থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন, কেউ কি আছে, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিবো। কেউ কি আছে, যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে দান করবো। কেউ কি আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো। (বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)

এশার পর তাহাজ্জুদ পড়ার বিধান

এশার নামাজের পর থেকে  ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সীমা। তবে এর মূল ওয়াক্ত হল, রাতের শেষ প্রহর। শেষ প্রহর বলতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থেকে ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্তকে বোঝানো হয়েছে। 

শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়া উত্তম। তবে শেষ রাতে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে এশার নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত ও বিতরের আগে তাহাজ্জুদ পড়ে নেয়া জায়েজ আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুদের মর্যাদা পেতে হলে রাতের শেষ প্রহরে উঠে এই নামাজ আদায় করতে হবে।

আব্দুল্লাহ ইবন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ নামাজ করবে। (বুখারি, হাদিস: ৯৯৮)

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে না পারার আশংকা করবে, সে যেন শুরু রাতেই বিতির পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি রাতের শেষ ভাগে উঠে (ইবাদত) করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন রাতের শেষ ভাগেই বিতির সমাধা করে। কারণ, রাতের শেষ ভাগের নামাজে ফেরেশতারা হাজির হন এবং এটিই উত্তম আমল। (মুসলিম, হাদিস: ৭৫৫)