ছেলেদের শরীর কতটুকু দেখানো জায়েজ?
ফাইল ছবি
গরমের সময়, খেলাধুলা কিংবা চলাফেরায় অনেক পুরুষ হাঁটুর ওপর পর্যন্ত ছোট প্যান্ট পরেন। কেউ মনে করেন, পুরুষের জন্য শুধু লজ্জাস্থান ঢাকলেই যথেষ্ট। প্রশ্ন হলো, ইসলামে একজন পুরুষের শরীরের কতটুকু ঢেকে রাখা জরুরি?
পুরুষের সতর কতটুকু
‘সতর’ শব্দের অর্থ ঢেকে রাখা। ইসলামি পরিভাষায় শরীরের যে অংশ অন্যের সামনে ঢাকা জরুরি, তাকে সতর বলা হয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী পুরুষের সতর নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত। নাভি সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে হাঁটু অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমসন্তান, আমি তোমাদের জন্য পোশাক দিয়েছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকে ও সৌন্দর্যের কারণ। আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম।’ (সুরা আরাফ: ২৬) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি: ৯) তাই পোশাকের পাশাপাশি কথা, দৃষ্টি ও আচরণেও লজ্জাশীলতা থাকা উচিত।
হাফ প্যান্ট পরা যাবে কি
যে হাফ প্যান্টে উরু খোলা থাকে, তা সতর ঢাকার বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই জনসমক্ষে এমন পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা উচিত। পুরুষের সতরের মধ্যে হাঁটুও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় হাঁটুও যথাযথভাবে ঢেকে রাখতে হবে।
খেলাধুলা, জিম বা সাঁতারের সময়ও বিষয়টি মনে রাখা দরকার। পোশাক এমন হতে হবে, যাতে সতর যথাযথভাবে ঢাকা থাকে। এত পাতলা বা স্বচ্ছ কাপড়, যার ভেতর দিয়ে শরীর দেখা যায়, যথেষ্ট আবরণ নয়। অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাকও এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তাতে শরীরের গঠন স্পষ্ট হয়।
অন্যের সতরের প্রতিও সম্মান
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সতরের দিকে না তাকায়।’ (সহিহ মুসলিম: ৩৩৮) কারও সতর অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পেলে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া উচিত। এ নিয়ে উপহাস বা কটু মন্তব্য করাও শোভন নয়।
নামাজে সতর ঢাকা
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত সতর ঢাকা। তাই সতরের কোনো অংশ খোলা থাকে, এমন ছোট প্যান্ট পরে নামাজ আদায় করা ঠিক নয়।
উপহাস নয়, সৌজন্য
কেউ বিধান না জানার কারণে ভুল করতে পারেন। তাই কাউকে অপমান বা উপহাস না করে সুন্দরভাবে, সম্ভব হলে একান্তে বিষয়টি জানানো উচিত। ইসলামে পোশাকের উদ্দেশ্য শুধু শরীর ঢাকা নয়, এর সঙ্গে লজ্জা, মর্যাদা ও শালীনতা জড়িত। একজন মুসলিম পুরুষের জন্য সতর যথাযথভাবে ঢেকে রাখা এবং জনসমক্ষে মার্জিত পোশাক পরা মুসলমানদের কর্তব্য।