যশোরে এবার ৭৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা

যশোরে এবার ৭৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা

ছবি: সংগৃহীত

যশোরের আট উপজেলায় এবার ৭৩৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের মণ্ডপ সংখ্যার চেয়ে ২৮টি বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলার চাঁচড়া বর্মণপাড়া শ্রীহরি মন্দিরে এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ১০১টি প্রতিমা নিয়ে বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৭৩৭ মণ্ডপে পূজা হবে এবার। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হবে মূল পূজা।

বিভিন্ন মণ্ডপে এখন প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। খড়, ছন ও মাটি দিয়ে প্রতিমার কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। দুই-এক দিনের মধ্যে রঙের কাজ শুরু হবে। 

যশোর শহরের বেজপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দিরের ভাস্কর শংকর মন্ডল জানান, এবার তিনি ৩৭টি প্রতিমা তৈরি করছেন। সময়মতো সরবরাহ দিতে রাত-দিন কাজ করছেন।

বর্মণপাড়া গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল বর্মণ বলেন, প্রতিবছর এখানে পূজা হয়, তবে এবার ১০১টি প্রতিমা বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে। দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা আসবেন বলে তিনি আশা করছেন। চাঁচড়া সর্বজনীন মন্দিরের সভাপতি তাপস বিশ্বাস জানান, এই ধরণের আয়োজন এবারই প্রথম। পুরোহিত ও ঢাকী ঠিক করা হয়েছে এবং প্যান্ডেলের গেট ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। 

এদিকে জেলার মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, শঙ্কাহীন পরিবেশে নির্বিঘ্নে যাতে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন জানান, কোন মণ্ডপে ডিজে না বাজিয়ে ভক্তিগীতি বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।