মহামারি কোভিড-১৯ আক্রমণের পর রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের প্রভাব। এ দুই মিলে খাদ্য ও জ্বালানির খরচকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বয়োবৃদ্ধরা।
খাদ্য
বিশ্বব্যাপী খাদ্যে ঘাটতি শুরু হয় করোনা মহামারীতে। সে সময় দেশে দেশে ধারাবাহিকভাবে কঠোর বিধিনিষেধে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশ্ব যখন সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্ট করছে ঠিক তখন-ই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ খাদ্য সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করে তোলে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে আশংকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।
আগামী জুন মাস থেকে আবারো এক কোটি দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য পণ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
খাদ্যদ্রব্যের অবৈধ মজুতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
রমজানে কী খাব? কী খাব না? প্রথমেই এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ায় আমাকে অনেক হৃদরোগীদের খাদ্যের উপদেশ দিয়ে থাকতে হয় এবং এ সব রোগীর মধ্যে অনেকে আবার উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকেন। তাই এসব কিছু বিবেচনা করে
ইউক্রেনের সাথে রাশিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্বব্যপী খাদ্য সংকট বেড়ে যাওয়ার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হচ্ছে।
দেশটিতে মস্কোর আগ্রাসনে গমের মজুদ লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো এবং জাহাজের মাধ্যমে কিয়েভ হতে খাদ্যশস্য বহন ব্যহত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চলতি অর্থবছরে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনও আশঙ্কা নেই। তিনি আজ সংসদে জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের কোনও ঘাটতি ছিল না। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরেও ঘাটতি হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই।
খাদ্যশস্য বোঝাই প্রায় দুই শ’ জাহাজ কৃষ্ণসাগরে আটকে রেখেছে রাশিয়া। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে খাদ্যশস্য বোঝাই সব জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেয় মস্কো।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে এরই মধ্যে দেশে দেশে জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে৷ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে প্রভাব৷ দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা৷