বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের তাণ্ডবে একদিনের ব্যবধানে প্লাবিত হয়েছে আরও অন্তত চারটি জেলা।
পানিবন্দি
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছে নদ-নদীর অববাহিকার চর ও নিম্নাঞ্চল। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার।
টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার মদন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
উজানের পাহাড়ি ঢলে ও ভারী বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার সদর, রাজনগরসহ সাতটি উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন
পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি কমায় সিলেটের আটটি উপজেলায় শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সিলেট নগরে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি ঢুকছে। এতে পানিবন্দি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। আর উপজেলাগুলোতে বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ।
সিলেটে বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটির অবস্থা ভয়াবহ। জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭ উপজেলায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০২ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৬ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া জেলার ৮ উপজেলায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে অন্ধকাচ্ছন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চট্টগ্রামবাসী।
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি ও জুরাছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১০ উপজেলায় ৩৭১টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম নগরীতে ১৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ডুবে গেছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধের দাবি জানান শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকেরা।