টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে আসা পানিতে ডুবে গেছে ফেনীর সব উপজেলা। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পানিবন্দি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ মুহূর্তে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬২৯টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের পেকুয়া-চকরিয়ায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ২০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জ জেলায় বাড়ছে নদী-নদীর পানি। একই সাথে ডুবছে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও কমলগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
গত কয়েক দিনের টানা অব্যাহত ভারী বর্ষণে নোয়াখালীর সেনবাগের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সপ্তাহখানেক টানা বৃষ্টি ও সে পানি খাল দিয়ে ঠিকমতো নিষ্কাশন হতে না পারায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানি ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার লোকালয়ে প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি করেছে।
কক্সবাজারে টানা ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত এ বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যে কারণে কক্সবাজারের ৯ উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে উখিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ।