সিলেটে বুধবার সূর্যের দেখা মিলেনি। বৃষ্টি হচ্ছে মঙ্গলবার রাত থেকেই। ফলে আবার বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। এতে প্লাবিত এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে।
পান
সিলেট জেলায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কুশিয়ারা ছাড়া অধিকাংশ নদ-নদীর পানি কমেছে।তবে কুশিয়ারার পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগও। বিশেষ করে এ নদী তীরবর্তী এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষের দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়। কবে ঘরে ফেরা সম্ভব হবে, সে অপেক্ষায় আছেন তারা।
উজানের ঢল ও গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে ফের পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষ।
আগামী ১০ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকার অন্যান্য পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
ফরিদপুরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোত। আর এ তীব্র স্রোতের কারণে নদী রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। হু-হু করে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলায় সেতু পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সোমবার সকালে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ৪৯টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক চরের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও এখনো লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে টানা ৩ সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্টে আরো ২১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৩ এবং কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি এখনও বাড়ছে। তবে, বৃষ্টি কমায় কিছু কিছু এলাকায় পানি কমছে।দুর্গত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।