আগামী ২৪ ঘন্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।
বন্যা
বন্যা পরিস্থিতিতে পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বজ্রপাত ও টিলাধসে এক সপ্তাহে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে কমপক্ষে ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। তবে, দুই জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সব তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি এই তিন জেলা পরিদর্শনে রওনা হন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পানি নতুন করে না বাড়লেও বানভাসি মানুষের দুর্গতির কমতি নেই। সিলেট নগরীর নিম্নঅঞ্চলের বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট এখনো তলিয়ে রয়েছে। নেত্রকোনায় উজানের ঢলে
নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সোমবার সকালে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে ৪৯টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক চরের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ভারত রোববার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভোগান্তি প্রশমনে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হচ্ছে না। বন্যায় অন্তত ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আসামে ৮০ জনের ও মেঘালয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোকেই অগ্রাধিকার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে জুন মাসে বন্যা হবে বলে ধারণা করা হলেও তার মাত্রা যে এতো ভয়াবহ হবে, সেটা ভাবতেও পারেন নি বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির বোতল, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং শুকনো খাবার সরবরাহ করবে ইউনিসেফ। এছাড়াও নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বিষয়ে তারা কাজ করবেন ।