শেরপুর ও হবিগঞ্জে বন্যার কারণে ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল পর্যন্ত) আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে পৌঁছেছে।
বন্যা
বন্যার প্রাদুর্ভাব চলে গেলেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি বলেন, বন্যা প্রাদুর্ভাব চলে গেলেই কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে বাধা থাকবে না। শিক্ষার্থীরা অনায়াসে পরীক্ষা দিতে পারবে। তখনই পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সিলেটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সাথে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ চললেও বেশির ভাগ দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী যাচ্ছে না। যাও যাচ্ছে তাতে দুর্গত মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে সামান্যই।
বন্যায় দেশে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। গত মাসের ১৭ তারিখ থেকে গতকাল ২১ জুন পর্যন্ত এসব মৃত্যু হয়।
বড় ধরনের বন্যার পর আরো বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় দক্ষিণ চীনের কয়েক হাজার মানুষকে নিজেদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সিলেটে চলমান বন্যায় প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে সিলেট জেলায় হাঁস-মুরগিসহ তিন হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। আর ডুবে গেছে গবাদিপশুর ৭১০টি খামার।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ বিতরণের জন্য ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) ২ দশমিক ৩ কোটি টাকা প্রদান করছে।
বন্যায় রেলপথের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন, রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ব্রিজও ভেঙে গেছে। শুরুতে বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়।
বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছানোয় গরিব-অসহায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কষ্টে তাদের দিন কাটছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না।
বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো তথা যাবতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা নিয়ে আসে। আল্লাহতায়ালা এসবের মাধ্যমে জগৎবাসীকে পরীক্ষা করে থাকেন।