বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় মোংলা বন্দরে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত
সংগৃহীত ছবি
ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে সকাল থেকে বাগেরহাট জেলাসহ মোংলা সমুদ্রবন্দর ও সুন্দরবন জুড়ে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বয়ে যাচ্ছে ঝোড়ো হাওয়া। এতে করে মোংলা সমুদ্র বন্দরে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
দিনভর বৃষ্টি হওয়ায় বন্দরে অবস্থানরত ‘গ্রেট বিউটি’ ও ‘হুয়া ইয়ং মেই গুই’ নামের দুটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ থেকে খালাস বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, আরও পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য খালাস ও পরিবহন বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে মোংলা বন্দরে ৯ নম্বর জেটিতে নিরাপদে আশ্রয়ে নোঙর করে রয়েছে নৌবাহিনীর দুটি এবং মোংলা নৌঘাঁটিতে আরো দুটি যুদ্ধজাহাজ।
বিএনএস শাপলা, বিএনএস শৈবাল, বিএনএস প্রত্যাশা ও বিএনএস স্বাধীনতা নামে চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোংলায় এসেছে। মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান ভুইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়কে ঘিরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অ্যালার্ট ওয়ান জারি করেছে। অ্যালার্ট বাড়লেই তখন বন্দরে সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
সুন্দরবনের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, দিনভর ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনে। এছাড়া, স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে কয়েকশত ফিশিং ট্রলার নিরাপদ জায়গায় অবস্থান করছে।
এদিকে, বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মাদ আল বেরুনী বলেন, জেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ও ব্লক প্রস্তত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পোল্ডারের বাঁধগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সড়িয়ে নেওয়ার জন্য ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে জেলা প্রশাসন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সভা করে নয় উপজেলায় ৩৫৯টি আশ্রয় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৮৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপির তিন হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতে নগদ ১৫ লাখ টাকা, ৮০০ টন চাল, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্যের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় জেলার ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে দুই লাখ ছয় হাজার ৬৫১ জনকে নিয়ে আসা হবে।