কোরআনের কোন আয়াতটি সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ?
ফাইল ছবি
পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রত্যেকটি আয়াত, হরফ ও সূরার মর্যাদা রয়েছে। প্রত্যেক হরফ তেলাওয়াতে ১০ নেকী লাভের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে কিছু কিছু আয়াত ও সূরাকে বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন একটি আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। আয়াতুল কুরসিকে কোরআনের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইবনুল আসকা (রা.) এর মুক্তদাস ইবনুল আসকার থেকে বর্ণিত। তিনি ইবনুল আসকাকে বলতে শুনেছেন, নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজিরদের আঙ্গিনায় তাদের কাছে আসলেন। তখন এক ব্যাক্তি তাকে প্রশ্ন করলো, কোরআনের কোন আয়াতটি সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ? তিনি বলেন, আয়াতুল কুরসী। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০০৩)
আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোরআনের মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ? উবাই ইবনে কাব বললেন, তা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থন করে বললেন, হে আবুল মুনযির! জ্ঞান তোমার জন্য সহজ হোক’। (মুসলিম, হাদিস: ৮১০)
আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল-কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো অন্তরায় থাকে না’। (নাসায়ী, হাদিস: ১০০)
আয়াতুল কুরসি
اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ
আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।
আয়াতুল কুরসির অর্থ
আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁকে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।
ইয়া আল্লাহ! আমাদের সবাইকে প্রতিদিন আয়াতুল কুরসির আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।