সাদা তিলের উপকারিতা

সাদা তিলের উপকারিতা

ফাইল ছবি

বর্তমানে বিভিন্ন খাবারে তিল ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে সাদা এবং কালো তিলের মধ্যে সাদা তিল খাবারে বেশি ব্যবহার করা হয়। সাদা তিলের উপকারিতা অনেকেরই স্পষ্ট ভাবে জানান নেই৷ বেশিরভাগ মানুষই তিলের নাড়ু খেতে পছন্দ করেন কিন্তু সেই তিলেরও যে এত গুণ থাকতে পারে তা জানলে সত্যি সত্যি অবাক হতে হয়। সাদা তিলে একাধিক ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে।

তিলের গুণাগুণ সম্পর্কে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। কালো তিলের পাশাপাশি সাদা তিলেরও অজস্র উপকারিতা রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। তিল থেকে নিঃসৃত তেলের ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল থেকেই এদেশে প্রচলিত। বহু বাঙালি রান্নার রেসিপিতেই সাদা তিলবাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কিন্তু সাদা তিলের উপকারিতা যে কতদূর বিস্তৃত তা অনেকেই জানেন না। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় এই উপাদানটি থাকলে বিশেষ ভাবে উপকার পাওয়া সম্ভব—

রক্তচাপ হ্রাস করে: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কার্যকরী সাদা তিল কারণ এই তিলে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা রক্তচাপ হ্রাস করে। প্রতিদিন ভোরে এক টেবিল চামচ কালো তিল অল্প অল্প করে মুখে দিয়ে মিহি করে চিবিয়ে যখন একেবারে রসের মতো হয়ে যাবে তখন গিলে ফেলতে হবে। এই ভাবে সব তিল চিবিয়ে খাওয়া হয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি খেতে হবে। এই তিল খাওয়ার পর ৩ ঘন্টা পর্যন্ত আর কিছু খাবেন না।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও অত্যন্ত কার্যকরী এই তিল। সাদা তিলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিংক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যা হাড় মজবুত করে এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা কমায়। তিলের তেল কিন্তু খুবই উপকারী। তিলের তের গোড়ালি ফাটা, ঠোঁট ফাটা দারুণ কাজ করে। তিল তেল একটু গরম করে রোজ মালিশ করলে এক মাসের মধ্যেই নিষ্প্রাণ ত্বকে উজ্জ্বলতা এসে যায়, সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। খিদে বাড়ায় তিলের তেল। নানা রকমের, ক্ষত, আঘাত, পুড়ে যাওয়া, মাড়িয়ে যাওয়া, ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদিতে তিলের তেল অত্যন্ত উপকারি।

গাঁটের ব্যথা উপশমে কার্যকরী: ফাইবার-যুক্ত হওয়ার ফলে হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য-সংক্রান্ত সমস্যাও দূর করে। সাদা তিলে রয়েছে কপার বা তামা যা গাঁটের ব্যথা, ফুলে যাওয়া, মাসল পেইন বা বাতের ব্যথার উপশমে কার্যকরী। তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে ডিএনএ-কে রক্ষা করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে সাদা তিলের। তাই যাদের কেমোথেরাপি নিতে হয় তাদের খাদ্যতালিকায় এই উপাদান রাখা খুব প্রয়োজনীয়। অনেকেই জানেন না যে ওরাল হেলথের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এই উপকরণ। মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া নিধনের জন্য মুখের ভেতর স্প্রে করা হয় সাদা তিলের তেল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় অয়েল পুলিং।

রূপ লাবণ্যে: সাদা তিলে রূপ লাবণ্যের জন্যও পরিচিত ৷ মুখের অবাঞ্ছিত দাগ মিটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক করে তোলে ৷ শরীরের পুড়ে যাওয়া জায়গায় তিল পিষে নিয়ে, পানিতে ধোওয়া ঘি ও কর্পূর মিশিয়ে প্রলেপ দিলে সুফল পাওয়া যায়। তিলের তেল গরম করে লাগালেও আশ্চর্য সুফল পাওয়া যায়। যদি শরীরের কোনো অংশ খুব জ্বালা করতে থাকে তাহলে তিল দুধ দিয়ে পিষে প্রলেপ লাগালে দাহ বা জ্বালা দূর হয়। অনেকেরই অকালে চুল পেকে যায় এবং দুর্বল হয়ে চুল পড়ে যায়। তাদের এই সমস্যা নিরসনে কালো তিলের প্রয়োজন। এই তিলের তেল প্রয়োগ করলে খুব উপকার পাওয়া যায়। এমনকি চুল গজাতেও সাহায্য করে।

কানের ব্যথা উপশম হয়: তিলের তেল আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। তিলের তেল ব্যবহার করা হয় রূপচর্চার ক্ষেত্রেও। পুষ্টির সমস্যা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দাঁত ব্যথা করলে হিং বা কালোজিরে পিষে নিয়ে তিলের তেল মিশিয়ে তেল গরম করে কুলকুচো করলে আরাম পাওয়া যায়। এই তেল তুলোয় লাগিয়ে মুখে রাখাও যেতে পারে। হিং, কালো লবণ মিশিয়ে গরম করা তিলের তেল পেটে মালিশ করলে বা সেঁক দিলে পেটের ব্যথা সারে এবং গ্যাস কমে যায়।