মসজিদে কি মোবাইল চার্জ দেওয়া যাবে?
প্রতীকী ছবি।
মসজিদের বিদ্যুৎসহ মসজিদের সব কিছু মসজিদের মূল কাজ ইবাদত-বন্দেগি এবং মসজিদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজের জন্য ওয়াকফ করা হয়। তাই সেগুলো মসজিদের কাজেই ব্যয় করতে হবে। ব্যক্তিগত কাজে মসজিদের কোনো সম্পদ ব্যয় করা জায়েজ নয়। মসজিদের বিদ্যুৎও মোবাইল চার্জ দেওয়াসহ ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না।
তবে যদি কেউ মসজিদে ইতেকাফে বসেন, তিনি তার মোবাইল মসজিদে চার্জ দিতে পারবেন। ইতেকাফকারী যেমন মসজিদে খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানোসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারেন, এসব কাজে মসজিদের বিদ্যুৎও ব্যবহার করতে পারেন, একইভাবে তিনি তার প্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে মোবাইলও মসজিদে চার্জ দিতে পারবেন।
কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে মসজিদে ইতেকাফকারী ছাড়া অন্য কারো জন্য যদি মসজিদে মোবাইল চার্জ দেওয়া অতি-প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, মসজিদ ছাড়া মোবাইল চার্জ দেওয়ার আর কোনো জায়গা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে তিনি মসজিদ কর্তপক্ষের অনুমতি নিয়ে মোবাইল চার্জ দেবেন এবং ওই চার্জের আনুমানিক মূল্য মসজিদে দান করে দেবেন।
মসজিদ আল্লাহর সম্মানিত ঘর। মসজিদের সম্পদ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা, নষ্ট না করা, ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় না করা, মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করা মুসলমানদের কর্তব্য ও তাকওয়ার দাবি। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,
ذٰلِکَ وَمَنۡ یُّعَظِّمۡ شَعَآئِرَ اللّٰهِ فَاِنَّهَا مِنۡ تَقۡوَی الۡقُلُوۡبِ
এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এটাতো তার অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ। (সুরা হজ: ৩২)
মসজিদকে মর্যাদায় সমুন্নত করার ও মসজিদে তার নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়ে এবং মসজিদে ইবাদতকারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فِیۡ بُیُوۡتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنۡ تُرۡفَعَ وَ یُذۡکَرَ فِیۡهَا اسۡمُهٗ یُسَبِّحُ لَهٗ فِیۡهَا بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَال رِجَالٌ لَّا تُلۡهِیۡهِمۡ تِجَارَۃٌ وَّ لَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوۃِ وَ اِیۡتَآءِ الزَّکٰوۃِ ۪ۙ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا تَتَقَلَّبُ فِیۡهِ الۡقُلُوۡبُ وَ الۡاَبۡصَارُ
যেসব গৃহকে মর্যাদায় সমুন্নত করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন ব্যক্তিরা যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। (সুরা নুর: ৩৬, ৩৭)