টুভালুর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রত্যাশী

টুভালুর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রত্যাশী

ফাইল ছবি।

দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুর প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি তাপুগাও ফালেফোউ রয়টার্সকে বলেছেন, অভিবাসন প্রত্যাশীর হার দেখে তিনি নিজেও হতবাক হয়ে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়া ও হাওয়াই এর মধ্যবর্তী এলাকায় নয়টি প্রবাল দ্বীপজুড়ে বিস্তৃত রাষ্ট্রটির জনসংখ্যা প্রাউ ১১ হাজার। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আবেদন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এক হাজার ১২৪ জন মানুষ আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনকারীদের পরিবারের সদস্যসহ ভিসা প্রত্যাশীর সংখ্যা চার হাজার ৫২ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টুভালুর স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর সর্বোচ্চ ২৮০টি ভিসা দেওয়া হবে যেন দেশটিতে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা দক্ষ জনশক্তি হারানোর ঘটনা না ঘটে।

এই জলবায়ু ভিসার আওতায় টুভালুর নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস, কাজ এবং পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধাও ভোগ করবেন অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের মতো।

ফালেফোউ জানান, এই অভিবাসন টুভালুর জন্য রেমিট্যান্সের নতুন উৎস হতে পারে।

নাসার বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রধান প্রবাল দ্বীপ ফুনাফুটির অর্ধেক অংশ জোয়ারে তলিয়ে যাবে। সেখানে দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিক বাস করেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে টুভালুর গড় উচ্চতা মাত্র দু মিটার। গত তিন দশকে এখানকার সমুদ্রের উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দেড়গুণ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে টুভালু এখন পর্যন্ত ১৭ একর আয়তনের কৃত্রিম জমি তৈরি করেছে। এই শতাব্দী টিকে থাকার জন্য এই আয়তন আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।