পাকিস্তান থেকে ধ্বংসস্তূপে ফিরছে হাজারো আফগান

পাকিস্তান থেকে ধ্বংসস্তূপে ফিরছে হাজারো আফগান

ফাইল ছবি এফপি

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হাজারো আফগান পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে ফিরে গেছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প সত্ত্বেও দেশে ফেরার হার বেড়েছে।

সোভিয়েত হামলা থেকে শুরু করে ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখল পর্যন্ত, পাকিস্তান চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সহিংসতা থেকে পালানো আফগানদের আশ্রয় দিয়েছে। বিভিন্ন ধাপে আফগানরা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় স্থিতি খুঁজে পেয়েছেন—কেউ কাজ ও শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন, কেউ পাকিস্তানকে পশ্চিমা দেশগুলোয় পুনর্বাসনের পথে অস্থায়ী আবাস বানিয়েছেন।

কেউ পাকিস্তানেই জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন। 

তবে পাকিস্তান সরকার ২০২৩ সালে সহিংস হামলা ও বিদ্রোহী কার্যক্রম বৃদ্ধির অজুহাতে আফগানদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে, এ জনসংখ্যাকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধী’ হিসেবে চিত্রিত করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এর পর থেকে ১২ লাখেরও বেশি আফগান পাকিস্তান থেকে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু এ বছরই ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি।

সর্বশেষ এই দমন অভিযানে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রদত্ত প্রুফ অব রেজিস্ট্রেশন কার্ডধারী আনুমানিক ১৩ লাখ শরণার্থীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইসলামাবাদ তাদের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে, তা না হলে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে।

চামান সীমান্ত ক্রসিংয়ের স্থানীয় প্রশাসক হাবিব বঙ্গুলজাই এএফপিকে জানান, ‘সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ চলে গেছে।’

আফগান সীমান্তের স্পিন বোলদাকে অভিবাসন নিবন্ধন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ হাকিমি বলেন, ‘৩১ আগস্ট থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার ফিরে যাচ্ছে।’

শরণার্থীরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ সময়সীমার আগে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের অভিযানে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি ও তল্লাশির মুখে পড়তে হয়েছে।

গ্রেপ্তার, আটক ও পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় আফগান পরিবারগুলো সীমান্তমুখী বহরে রওনা হয়েছেন।

ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সীমান্ত পেরোনোর হার বেড়েছে। শুধু ২৪ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে ২৫ হাজার ৪৯০ জন আফগান ফিরেছে, যাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৫ জন ছিলেন কার্ডধারী।

স্পিন বোলদাক সীমান্ত থেকে আফগান প্রত্যাবর্তী খান ওয়ালি এএফপিকে বলেছেন, তিনি লাহোরে কাজ করতে পারছিলেন না এবং নিয়মিত হয়রানির শিকার হতেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের বারবার আটক করত।

তারা আমাদের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করত।’

পেশওয়ারের এক কার্ডধারী এএফপিকে জানান, আফগান সীমান্তসংলগ্ন ওই শহরে পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ, যেটি পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে। তবে তিনি বলেন, ‘রাজধানী ইসলামাবাদে মানুষ নরকযন্ত্রণা ভোগ করছে।’

সর্বশেষ এই বহিষ্কার কার্যক্রম চলছে এমন সময়ে, যখন দারিদ্র্যপীড়িত আফগানিস্তান সীমান্ত অঞ্চলের গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে লড়ছে। সেসব গ্রামে সম্প্রতি বহিষ্কৃত বহু অভিবাসীও বাস করত। এ দুর্যোগে এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রতিবেশী আফগান তালেবান প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করার জন্য, যাদের ইসলামাবাদ সীমান্ত হামলা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছে।

তবে আফগান তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।