স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি ভালো,চিনাবাদাম নাকি ভাজা ছোলা

স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি ভালো,চিনাবাদাম নাকি ভাজা ছোলা

সংগ্রহীত ছবি

বিকেল বা সন্ধ্যার আড্ডায় কিংবা ট্রেনের লম্বা জার্নিতে হালকা স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু হালকা খিদা মেটানোর জন্য যখন হাতের সামনে একদিকে থাকে চিনাবাদাম, আর অপরদিকে থাকে ভাজা ছোলা, সেই সময় মনে প্রশ্ন জাগে যে কোনটা খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী?

আসলে দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে গুণাগুণে রয়েছে কিছু পার্থক্য। চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—

চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ

চিনাবাদামে থাকা উচ্চ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠন ও মেরামতে সাহায্য করে।

এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হার্ট সুস্থ রাখতে দারুণ উপকারী। ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক থাকে বলে চিনাবাদাম ত্বক মসৃণ রাখতে, চুল ঝলমলে করে তুলতে এবং হাড়কে শক্ত করতে সাহায্য করে।

                 

চিনাবাদামে রেসভেরাট্রলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেরি করে এবং কোষের ক্ষয় কমায়।

মন ভালো রাখতে পারে চিনাবাদামে থাকা ট্রিপটোফ্যান। মূলত, এটি সেরোটোনিন হরমোন বাড়িয়ে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

তবে মাথায় রাখতে হবে, চিনাবাদামে ক্যালরি অনেক বেশি। এক মুঠো খাওয়া স্বাস্থ্যকর ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত খেলেই ওজন বাড়তে পারে।

এ ছাড়া যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি খাওয়া ঠিক নয়।

ভাজা ছোলার পুষ্টিগুণ

ভাজা ছোলা অনেকের কাছে ডায়েট ফ্রেন্ডলি স্ন্যাকস নামে পরিচিত। কম ক্যালরি, উচ্চ ফাইবার সম্পন্ন ভাজা ছোলা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। তাই এটি খেলে ওজন কমতে সাহায্য হয়। প্রোটিনে ভরপুর ভাজা ছোলা।

এটি বিশেষত নিরামিষভোজীদের জন্য প্রোটিনের এক দারুণ উৎস।

আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স রয়েছে বলে এটি খেলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়, হাড় ও দাঁত শক্ত থাকে এবং শরীরে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। হজমে সহায়তা করতে পারে। ভাজা ছোলায় প্রচুর ফাইবার থাকার কারণে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

 

তবে কারো কারো ক্ষেত্রে বেশি ভাজা ছোলা খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অল্প অল্প করে খাওয়াই ভালো।

দুটির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী

ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা থাকলে ভাজা ছোলা খাওয়া ভালো। হার্ট, চুল ও ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে চিনাবাদাম বেশি কার্যকর। অন্যদিকে শক্তি ও পেশি গঠনের জন্য দুটিই ভালো। তবে চিনাবাদামের প্রোটিন ও ফ্যাট বেশি সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

আসলে কোনটা বেশি ভালো, তা নির্ভর করে যে ব্যক্তি এটি খাচ্ছেন, তার শরীরের প্রয়োজনের ওপর। যদি ওজন কমানো মূল লক্ষ্য হয়, তবে ছোলার দিকেই ঝুঁকতে পারেন। আর যদি সুস্থ ত্বক, চুল আর হার্ট চান, তবে মুঠোভর্তি চিনাবাদাম খেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, দুটিই সীমিত পরিমাণে খেয়ে ব্যালান্স রাখা।