আরও কঠোর হলো অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র আইন

আরও কঠোর হলো অস্ট্রেলিয়ার অস্ত্র আইন

ফাইল ছবি।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের বন্ডি বিচে হামলার পর অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার।এতে অস্ত্র আইন এবং মতপ্রকাশ ও জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচে হামলায় ১৫ জন নিহত হন। এমন পরিস্থিতি দুই সপ্তাহ পর বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া।

ভোরে রাজ্য আইনসভা 'টেররিজম অ্যান্ড আদার লেজিসলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৫' পাস করে।

এতে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা কঠোর করা, সন্ত্রাসের প্রতীক প্রকাশ্যে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশি ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় কোনো সন্ত্রাসী ঘোষণা জারি হলে, পুলিশ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীক প্রকাশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একবার ঘোষণা জারি হলে নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের জনসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া কারও উপস্থিতি বা আচরণে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বা হয়রানি কিংবা ভীতিপ্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে পারবে।

আইনটি তথাকথিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়েও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা’ শব্দগুচ্ছের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সাধারণত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স স্বীকার করেছেন, এসব পদক্ষেপ বড় ধরনের পরিবর্তন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। তবে তিনি বলেন, বন্ডির ভয়াবহ ইহুদিবিরোধী হামলার পর রাজ্যের বাস্তবতা বদলে গেছে এবং আইনেও সেই পরিবর্তন প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকদের ব্যবহারের বাইরে কিছু অস্ত্র নিষিদ্ধসহ কঠোর অস্ত্র আইন পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।