ইয়ুথ অলিম্পিকে নেই শুটিং-আরচ্যারি

ইয়ুথ অলিম্পিকে নেই শুটিং-আরচ্যারি

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গেমসে বাংলাদেশের আশা-ভরসার কেন্দ্রে শুটিং ও আরচ্যারি। বিগত ও বর্তমান কমনওয়েলথ গেমসে নেই শুটিং ডিসিপ্লিন। সেনেগালের ডাকারে ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসেও নেই শুটিং। তাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল খানিকটা আরচ্যারি ঘিরে। সেই আরচ্যারি ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব) ইয়ুথ অলিম্পিক গেমস নিয়ে বলেন, 'আরচ্যারি বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খেলা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তাই আমরা আরচ্যারিকে সবার্ধিক গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে আবেদন করেছিলাম। তারা বাংলাদেশকে ইয়ুথ অলিম্পিকে আরচ্যারির জন্য বরাদ্দ করেনি, অন্য তিনটি খেলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।'

বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ ইয়ুথ অলিম্পিকে বাংলাদেশের আরচ্যারি না থাকা বিষয়ে বলেন, 'এবারের ইয়ুথ অলিম্পিক গেমস হচ্ছে আফ্রিকার সেনেগালে। অনেক খেলাতেই আফ্রিকার দেশগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এরপর স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে অন্য দেশগুলো এগিয়ে থাকায় আমরা অপেক্ষামান তালিকায় রয়েছি। কোন দেশ যদি আরচ্যারি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করে তখন হয়তো আমরা সুযোগ পেতে পারি।'

ইয়ুথ অলিম্পিকে আরচ্যারিতে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট স্কোর বা মানদন্ড প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেই মানদন্ডে অনেকটাই দূরে এবং কানাডায় বিশ্ব যুব আরচ্যারি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফলাফলও তেমন ভালো ছিল না। বিষয়টা অনেকটা স্বীকার করে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর বলেন, 'কানাডার টুর্নামেন্ট, স্কোর, আফ্রিকার দেশসমূহ সব কিছু মিলিয়েই আমরা ইয়ুথ অপেক্ষামান তালিকায়।' আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খানিকটা আশা থাকলেও বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের আরচ্যারির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনকে সাঁতারে একজন বালক-বালিকা, অ্যাথলেটিক্স ও বক্সিংয়ে একজন বালকের জন্য ওয়াইল্ড কার্ড বরাদ্দ করেছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি।

বাংলাদেশ অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে গলফার সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর ২০২০ টোকিও এবং ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে বাংলাদেশের দুই আরচ্যার রোমান সানা ও সাগর ইসলাম সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। প্যারিসে প্যারা অলিম্পিকে ঝুমা আক্তারও নিজ যোগ্যতায় নাম লিখিয়েছিলেন। ২০১৪ ও '১৮ সালে দুই ইয়ুথ অলিম্পিকও ছিলেন আরচ্যাররা। এবারই থাকছেন না কোনো আরচ্যার।

২০১৪ সালে চীনের নানজিং যুব অলিম্পিকে আরচ্যারি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, কুস্তি ও ভারত্তোলন, ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্স বাংলাদেশ যুব অলিম্পিকে ফিল্ড হকি, আরচ্যারি ও শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। এবার চতুর্থ ইয়ুথ সামার অলিম্পিকে বাংলাদেশের সাঁতার, বক্সিং ও অ্যাথলেটিক্সে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।