৭০ বছর বয়সেও খনি শ্রমিক স্পেনের ক্লাবে গোলরক্ষক

৭০ বছর বয়সেও খনি শ্রমিক স্পেনের ক্লাবে গোলরক্ষক

৭০ বছর বয়সেও খনি শ্রমিক স্পেনের ক্লাবে গোলরক্ষক।। ছবিঃ সংগৃহীত।

৭০ বছর বয়সেও সাবেক খনি শ্রমিক থেকে গোলরক্ষক হয়ে ওঠা অ্যাঞ্জেল মাতেওস গনসালেস প্রমাণ করে চলেছেন—বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।

রবিবার স্পেনের পঞ্চম স্তরের ফুটবল লিগের এক ম্যাচে সিডি কলুঙ্গার হয়ে মাঠে নামলে, তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিক ম্যাচে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়বেন বলে জানা গেছে। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ প্রাভিয়ানো।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ম্যাচে মাতেওসকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাকে সম্মান জানাতে। তিনি ৪৩ বছর বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবটি জানায়, ‘এটি কোনো রেকর্ড বা ব্যতিক্রম নয়, এটি একটি সম্মাননা। মাতেওস আমাদের ক্লাবের মূল মূল্যবোধ—আবেগ, ধারাবাহিকতা, ফুটবলের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বয়সের ঊর্ধ্বে উঠে খেলাধুলাকে দেখার মানসিকতার প্রতীক।’

তারা আরও বলে, ‘তিনি একজন মানুষ, যিনি খনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং সারাজীবন কাজ ও ফুটবলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এটি সংখ্যার বিষয় নয়, এটি মূল্যবোধের বিষয়। কেউ যদি শুধু তার বয়স নিয়েই কথা বলে, তাহলে মূল বিষয়টি সে বুঝতে পারছে না।’

এই মৌসুমে গনসালেস দলের গোলরক্ষকদের পেছন থেকে দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি স্থানীয় একটি পত্রিকাকে বলেন, পুরো ম্যাচ খেলতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন, তবে চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

গনসালেস বলেন, ‘আমি এখনও নিজেকে চটপটে মনে করি। আমি সবসময় সক্রিয় থেকেছি—বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছি এবং এখনও খেলছি।’

তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ফুটবল যেন একেবারেই ভিন্ন ছিল—বল, মাঠ সবকিছুই আলাদা ছিল। আমি মনে করি, গোলপোস্টের পাশে একটি পাত্র রাখতাম, যাতে রেফারির চোখ এড়িয়ে কাদাময় মাঠ থেকে পানি সরাতে পারি। তখন প্রায় প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতি হতো।’

উল্লেখ্য, এই ম্যাচটি কলুঙ্গার জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ১৮ দলের লিগে তারা বর্তমানে দশম স্থানে রয়েছে, অবনমন বা শীর্ষে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই নেই, বাকি আছে মাত্র দুটি ম্যাচ।